প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে হাইকোর্টে রুল

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত কর্পোরেট সংবাদ জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  দৈনিক “প্রতিদিনের কাগজ” পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে হাইকোর্টে রুল জারি করা হয়েছে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা রিট পিটিশন নং–১৮২৬৬১/২০২৫-এর প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।


বিজ্ঞাপন

রিটটি দায়ের করেন দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম। আবেদনে তথ্য ও প্রকাশনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক “প্রতিদিনের কাগজ”-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিককেও বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, “প্রতিদিনের কাগজ”-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রাফিক বিভিন্ন ব্যাংকে ৩৩টি হিসাব পরিচালনা করছেন এবং ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংক থেকে পত্রিকার নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছেন।


বিজ্ঞাপন

আবেদনে আরও দাবি করা হয়, অতীতে প্রভাব খাটিয়ে মোট ৫৩৯ কোটি টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে এবং গত এক বছরে কানাডা, দুবাই ও সিঙ্গাপুরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গাজীপুর ও ঢাকায় একাধিক প্লট কেনার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

রিটকারী শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি তিন মাস “প্রতিদিনের কাগজ” পত্রিকায় চাকরি করার সময় এসব অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেছেন। তার অভিযোগ, পত্রিকার ব্যবসার আড়ালে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করা হয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেন। আদালত বিবাদীদের কাছে জানতে চেয়েছেন—কেন সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে না।

আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়ে বিবাদীদের নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিবাদী মো. খায়রুল আলম রাফিককে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে দৈনিক “প্রতিদিনের কাগজ”-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “মহামান্য আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আমাদের আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল করব। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

অভিযোগকারী এর আগেও বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ করেছেন, তবে সেগুলোর সত্যতা মেলেনি। যে কেউ উচ্চ আদালতে যেতে পারেন—এটি তার সাংবিধানিক অধিকার। আমরাও যথাসময়ে আইনগত জবাব প্রদান করবো।

👁️ 67 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *