প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ‘সিন্ডিকেটের দখলে : সরকার বদলালেও বদলায়নি ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার পরিবর্তনের পরও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঠিকাদারি ব্যবসায় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগ আমলে যেসব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও খামারে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করত, তাদের অনেকেই বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন প্রভাববলয়ে থেকে আগের মতোই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে এখনও একই গোষ্ঠীর ঠিকাদারদের প্রভাব বজায় রয়েছে।


বিজ্ঞাপন

এ কাজে অধিদপ্তরের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের একটি অংশ সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, সাভার ডেইরি ফার্মসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কাজ পেত, তাদের মধ্যে শিখা ট্রেডার্স, লুৎফা অ্যান্ড সন্স, কাশবন, বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস, সিমেক্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।

অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পরও এসব প্রতিষ্ঠান নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পেয়ে যাচ্ছে।

নিম্নমানের পশুখাদ্য  সরবরাহের অভিযোগ  : অভিযোগকারীদের দাবি, ছাগল উন্নয়ন প্রকল্প, প্রুভেন প্রকল্প, ছিটমহল প্রকল্প, সাভার ডেইরি ফার্ম, কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, কুমিল্লা মুরগি খামার, নারায়ণগঞ্জ হাঁস খামার, সীতাকুণ্ড হাঁস-মুরগি খামার, হাটহাজারী ডেইরি ফার্ম, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা মুরগি খামারসহ দেশের বিভিন্ন খামার ও প্রকল্পে সুবিধাজনক শর্তে কাজ নিয়ে নিম্নমানের ও কম পরিমাণে মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে ।

বিশেষ করে আওয়ামী নেতা বিমলের শিখা ট্রেডারস নামক প্রতিষ্ঠান কে ৫ কোটি টাকার অধিক  নিম্নমানের পশুখাদ্য সরবরাহের  কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর একাধিক মালিক পক্ষ। 

তাদের মতে, গত এক বছরের ক্রয় ও সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করলেই এ বিষয়ে বাস্তব চিত্র উঠে আসবে।

দরপত্র মূল্যায়নে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ভূমিকা : অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তার মাধ্যমে অধিকাংশ দরপত্র মূল্যায়ন করা হতো, তাদের কয়েকজন এখনও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন কমিটিতে বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দরপত্র মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতেন।

এদিকে একজন নবম গ্রেডের নন-ক্যাডার ভেটেরিনারি সার্জনকে একাধিক দপ্তরের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) সম্পর্কে তার পর্যাপ্ত জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সরকারি গাড়ির অপব্যবহারের অভিযোগ : সূত্রগুলোর দাবি, ওই কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ব্যক্তিগত কাজ, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে গাড়িটি ব্যবহার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন।
একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করেন, মূল্যায়ন কমিটি শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠানকেই সুবিধা দেয়।

নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ :
অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এসকে ট্রেডার্স সম্প্রতি একটি প্রকল্পে প্রায় ৯৮ লাখ টাকার ওষুধ সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, উক্ত দরপত্রে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ না নিলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কার্যাদেশ পাওয়ার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও ওষুধ সরবরাহ সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

নিম্নমানের পশুখাদ্য সরবরাহের অভিযোগ : সম্প্রতি প্রায় পাঁচ কোটি টাকার একটি সরবরাহ কাজ একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের পশুখাদ্য সরবরাহ করেছে, যার সঙ্গে দরপত্রে জমা দেওয়া নমুনার মিল নেই।

অভিযোগকারীদের দাবি, অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে সরবরাহ করা পশুখাদ্যের নমুনা স্বাধীন পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত মান যাচাই করা সম্ভব হবে।

তদন্তের দাবি : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

👁️ 41 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *