
ওমর ফারুক, (রংপুর) : কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চিরচেনা তীব্র যানজট, অবৈধ পার্কিং আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে থাকার সেই চেনা ভোগান্তির চিত্র আজ অতীত! আর এই অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন একজন মানুষ—ট্রাফিক সার্জেন্ট মোঃ আব্দুল হাই।

তাঁর পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ রৌমারীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক জাদুকরী বিপ্লব ঘটিয়েছে।
সাধারণত ট্রাফিক পুলিশ মানেই যেখানে চালকদের মনে মামলা বা হয়রানির ভয় কাজ করে, সেখানে সার্জেন্ট আব্দুল হাই দেখিয়েছেন এক অনন্য মানবিকতা।

আইনের কঠোর প্রয়োগের চেয়ে চালকদের ভালোবেসে ও বুঝিয়ে সচেতন করার মাধ্যমে তিনি জয় করে নিয়েছেন রৌমারীবাসীর মন। হেলমেট বা লাইসেন্স ভুলবশত ফেলে আসা চালককে হয়রানি না করে, পরম যত্নে সুরক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার মতো অসংখ্য উদাহরণ তৈরি করেছেন তিনি।

ভোলার মোড়, থানার মোড় কিংবা উপজেলা মোড়—তিনি যেখানেই দাঁড়ান, শৃঙ্খলা যেন সেখানে নিজে থেকেই ফিরে আসে। স্থানীয় চালক থেকে শুরু করে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংগঠক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল মোমেনসহ সচেতন মহল তাঁর এই সততা ও নিষ্ঠাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
আইন শুধু শাস্তি বা জরিমানার জন্য নয়, বরং আইন মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য—এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করেই প্রতিদিন রৌমারীর রাজপথে আলো ছড়াচ্ছেন নিরাপদ সড়কের এই নতুন বাতিঘর।
দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যদি সার্জেন্ট আব্দুল হাইয়ের মতো মানবিক, সৎ ও কর্মঠ কর্মকর্তা থাকতেন, তবে বাংলাদেশের সড়কগুলো সত্যিই আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতো।
