
বিশেষ প্রতিবেদক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (জয়)কে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি।

একদিকে প্রাক্তন স্ত্রী ক্রিস্টিন ওয়াজেদের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ নিষ্পত্তিতে প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি টাকা) পরিশোধের তথ্য, অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে প্রায় ৬০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ—দুই তথ্য একসঙ্গে সামনে আসায় অর্থের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদ চুক্তির শর্ত অনুসারে ক্রিস্টিন ওয়াজেদকে এককালীন ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ১০ বছর ধরে প্রতি মাসে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধের শর্ত রাখা হয়। এছাড়া তাঁদের কন্যা সোফিয়ার জন্য শিশু-ভরণপোষণ বাবদ প্রতি মাসে ৩ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সব মিলিয়ে এই আর্থিক দায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

এমন বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সজীব ওয়াজেদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, অনুসন্ধানে সজীব ওয়াজেদের নামে ৫৪ কোটি ৩৯ লাখ ২০ হাজার ৯৭৮ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯১ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যয়সহ তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ১৮ লাখ ৫ হাজার ৮৬৯ টাকা।
দুদকের দাবি, এসব সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ মাত্র ১ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৫৪২ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বা অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ কোটি ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭০ টাকা। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বিবাহবিচ্ছেদের চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ৪২ কোটি টাকা পরিশোধের অর্থ কোথা থেকে এলো? যদি দুদকের অনুসন্ধানে উল্লেখিত আয়ের তথ্যই সঠিক হয়ে থাকে, তবে এত বড় অঙ্কের অর্থের উৎস কী ছিল—এ প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
তবে উল্লেখ্য, দুদকের অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি এবং অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে সজীব ওয়াজেদের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একদিকে বিলাসবহুল জীবনযাপন, জাঁকজমকপূর্ণ পারিবারিক আয়োজন ও কোটি কোটি টাকার বিবাহবিচ্ছেদ নিষ্পত্তি, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংস্থার অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ—এই দুই বাস্তবতা এখন জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে। ততদিন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—কোটি কোটি টাকার এই অর্থের প্রকৃত উৎস কোথায়?
