
কাজী মমিনুর রহমান পার্বতীপুর, (দিনাজপুর) যে মহুর্তে দিনাজপুর জেলাসহ রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় মঙ্গা মৌসুম শুরু হয়েছে, দু-বেলা দু-মুঠো খাদ্য যোগাড় করতে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ যখন নাকাল ঠিক সেই মহুর্তে দিনাজুপরে পাবর্তীপুরে কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলা এবং আনন্দ মেলায় লটারী নামক জুয়া ও যাত্রাপালার নগ্ননৃত্য এলাকায় চরম অবক্ষয় ডেকে এনেছে। দিনাজপুরের পাবর্তীপুর উপজেলা ও রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা খোলাহাটি হাসিনানগর এলাকায় চলছে খোলাহাটি কুঠির শিল্প ও বানিজ্য মেলা। অন্যদিকে পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর (হাবড়া) এলাকায় চলছে আনন্দ মেলা। নামেই শুধু কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলা বা আনন্দ মেলা। বাস্তবে নেই কোনো উল্লেখযোগ্য কুঠির শিল্পের নিদর্শন। যা আছে তা হলো অবৈধ লটারী নামক জুয়ার ব্যবসা ও যাত্রাপালার নগ্ননৃত্যের আয়োজন। লটারীর নামে অবৈধ জুয়ার আসর ও গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রাপালার নামে অশ্লীল নৃত্য এবং অসামাজিক কর্মকান্ডই যেন এসব আয়োজনের মুল আর্কষনে পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরের মধ্যেই যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না ? কার স্বার্থে মেলার নামে এসব কর্মকান্ড চলতে দেয়া হচ্ছে ? প্রশাসনিক উদাসীনতা নাকি প্রভাবশালীদের চত্রছায়া- কেনই বা বদলী করা হলো ইউএনও সাদ্দাম হোসেন কে এ প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এই লটারী নামক জুয়া, অশ্লীল নৃত্য ও অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুপ প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ সমাজে। নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণদের একটি অংশ সহজে অর্থ লাভের আশায় জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। অনেকেই এনজিও থেকে লোন বা ধারকর্য করে এই লটারীর খেলায় অংশ নিয়ে পুরস্কার না পেয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকের সংসারে অর্থনৈতিক টান পড়ছে। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী ও অন্যান্য সদস্যদের সাথে জগড়া-বিবাদ লেগেই আছে। মসজিদের দানবাক্স চুরির হিড়িক পড়ছে চারিদিকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রাপালার নামে গভীর রাত পর্যন্ত অশ্লীল, অশালীন ও আপত্তিকর নৃত্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এসব পরিবেশনায় শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে এমন পোশাক ও অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করা হয় যা পারিবারিক পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব আয়োজন দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকের ভিড় জমে এবং রাতভর উচ্চ শব্দে গান ও নৃত্যের কারণে স্থানীয় পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। সচেতন মহলের ভাষ্য, সংস্কৃতির নামে এমন আয়োজন সামাজিক মুল্যবোধ ও পারিবারিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

তথাকথিত, খোলাহাটি ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লটারী নামক জুয়া ও অশ্লীল, অশালীন ও আপত্তিকর নৃত্য পরিচালনার মুল হোতা কারা ? শুনলেই যেন গা শিওরে ওঠার মতো। অভিযোগ রয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত শহীদ বীর উত্তম মাহাবুব সেনানিবাস (খোলাহাটি সেনা নিবাস) এর সংরক্ষিত এলাকা বদরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে (সেনাপল্লী নামে পরিচিত) জায়গাটি খোলাহাটি সেনা নিবাস কে চুক্তিভিত্তিক ভাড়া দিয়ে খোলাহাটি ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লটারী নামক জুয়া ও অশ্লীল, অশালীন ও আপত্তিকর নৃত্য পরিচালনা করছে মেলা কমিটি। সেই সাথে মেলার প্রধান আর্কষণ সেনাবাহিনীর বিশেষ নজরদারী ও টহল।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি আমাদের এ প্রতিনিধি কে জানান, গত বছরে লটারী নামক জুয়া বন্ধে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সাবেক) সাদ্দাম হোসেন প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেন পাবর্তীপুরে লটারী নামক জুয়া চলবে না। কিন্তু এই বছরে তিনি বদলী জনিত কারণে পাবর্তীপুর থেকে বিদায় নিলে বাণিজ্য মেলা ও আনন্দ মেলার আড়ালে লটারী নামক জুয়া ও অশ্লীল, অশালীন ও আপত্তিকর নৃত্য ব্যাপক আকার ধারণ করে। কিছুতেই যেন থামছে না। চোড়াগুপ্তা ভাবে লটারীর টিকিট বিক্রি হচ্ছে পার্বতীপুরে।
বাণিজ্য মেলায় লটারী নামক জুয়া ও অশ্লীল, অশালীন ও আপত্তিকর নৃত্য পরিচালনার বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ হোসাইন রাজু এবং পাবর্তীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল ওয়াদুদ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তারা আমাদের এ প্রতিনিধিকে জানান, আমাদের কাছে আনন্দ মেলার বিষয়ে কোনো প্রকার অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অন্যদিকে লটারী নামক জুয়া ও অশ্লীল, অশালীন ও আপত্তিকর নৃত্য পরিচালনার বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, শনিবার অফিস বন্ধ তাই তিনি খুব ব্যস্ততা দেখান এবং জেলা প্রশাসক রংপুর এর অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন। তিনি আরো বলেন আপনাদের কিছু জানার থাকলে জেলা প্রশাসক রংপুর এর কাছে জানতে পারেন।
লটারী নামক জুয়া ও অশ্লীল, অশালীন ও আপত্তিকর নৃত্য পরিচালনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক রংপুর মোঃ রুহুল আমিন কে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
