
নিজস্ব প্রতিবেদক (রাজশাহী) : ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মহানগরীতে পরিচালিত এক ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্রবিহীন বিভিন্ন প্রসাধনী বিক্রির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী মহানগরীর নিউ মার্কেট সংলগ্ন থিম ওমর প্লাজায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ‘শ্যাম্পু, সাবান, লিপস্টিক, স্কিন লোশন, স্কিন ক্রিম, স্কিন পাউডার’সহ বিভিন্ন প্রসাধনী বিএসটিআইয়ের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই বিক্রি-বিতরণের প্রমাণ পাওয়ায় ‘কুইন্স পার্ক’ ও ‘কেসি বাজার’ প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে বিএসটিআই কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা : ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর কর্মকর্তারা। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাহাতুল করিম মিজান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই রাজশাহী বিভাগীয় অফিসের সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

বিএসটিআই কর্মকর্তাদের সরেজমিন তৎপরতা এবং প্রশাসনের সমন্বিত অভিযানের ফলে বাজারে ছাড়পত্রবিহীন প্রসাধনী বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে। জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা স্বার্থে মানহীন কিংবা অননুমোদিত পণ্য বাজারজাত বন্ধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিযান চলাকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।

নিয়মিত অভিযানের বার্তা : বিএসটিআই রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল ও নকল পণ্যের বিস্তার রোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ করে প্রসাধনীসহ বিভিন্ন ভোগ্য ও ব্যবহার্য পণ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মানসনদ ও বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহীর বাজারে বিএসটিআইয়ের এই ধারাবাহিক অভিযান ব্যবসায়ীদের জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি ভোক্তাদের জন্যও স্বস্তির খবর।
মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআই রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অনুমোদনহীন ও মানহীন পণ্যের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
