
মোস্তাফিজুর রহমান, (জামালপুর) : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ও ভাষাসৈনিক ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি শোক র্যালি বের হয়ে প্রয়াত এই নেতার কবরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আজিম উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী লেকু, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র ফয়জুল কবীর তালুকদার শাহীন, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পিন্টু, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মিলনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ প্রয়াত নেতার কবরে এসে শ্রদ্ধা জানান। প্রিয় নেতাকে স্মরণ করে অনেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সরিষাবাড়ীর মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

এ উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে কাঙালিভোজেরও আয়োজন করা হয়।
ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ১৯৩৬ সালের ৪ নভেম্বর জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মুলবাড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রাজনীতির পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন ও দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পরবর্তীতে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং লিয়াজোঁ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়টিও ছিল বেদনাবিধুর। ১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট হৃদরোগের চিকিৎসায় বাইপাস সার্জারির উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য ঢাকা ছাড়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
দীর্ঘ ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার তাঁর জন্মভূমি সরিষাবাড়ীর মানুষের কাছে আজও স্মরণীয়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।
