কুড়িগ্রামে বেড়া ভেঙে ১৫০ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

আরমান হোসেন রাজু,  (রংপুর)  :  কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর উত্তেজিত হয়ে ডিলারের গুদামের সাটার ও টিনের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকরা।


বিজ্ঞাপন

তবে এ ঘটনাকে ‘সার লুটপাট’ বলতে নারাজ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

​সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড় এলাকার ‘মিতা হাসান ট্রেডার্স’-এর গুদামে এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারের আশায় রবিবার মধ্যরাত থেকেই বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড়ে ডিলারের গুদামের সামনে ভিড় জমাতে থাকেন শত শত কৃষক। সকাল ৯টার দিকে ডিলার মো. মতিউর রহমান অপেক্ষা করা কৃষকদের জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ এনে সার বিতরণ করা হবে। কিন্তু এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও প্রশাসন বা পুলিশের উপস্থিতি না দেখে চরম ধৈর্যহারা হয়ে পড়েন সারপ্রার্থী কৃষকরা।


বিজ্ঞাপন

​একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বেলা ১১টার দিকে ওই গুদাম ঘরের সাটার ও টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং আনুমানিক দেড় শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঘটনাটির ভিডিও চিত্র ও ছবি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের সার ডিলার মো. মতিউর রহমান বলেন, “সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু কৃষকদের উপস্থিতি ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে সহযোগিতার জন্য আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে যাই। এর মধ্যেই বেলা ১১টার দিকে ধৈর্য হারিয়ে কৃষকেরা গোডাউন ভেঙে আনুমানিক দেড় শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। মোট কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা দিন শেষে হিসাব করে জানা যাবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া জানান, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। ফেসবুকে সার লুটের যেসব নিউজ ঘুরছে তা সঠিক নয়। কৃষকরা ধৈর্য ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে সার নিলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল কবির বলেন, “এখানে অনেক অ-কৃষক, ভ্যান ও রিকশাচালক সার নিতে এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। তারা কম দামে সার সংগ্রহ করে বাইরে বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা করছিল।”

রৌমারী ​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মো. মাহবুবুল হাসান জানান, “আমি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্ট ঘুরে পর্যবেক্ষণ করছি। একটি পয়েন্টে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।”

👁️ 20 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *