সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা 

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

পাবনা প্রতিনিধি৷ :  সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে নিজস্ব ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক আমার দেশ ও বাসস-এর জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী নারীর একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে তীব্র আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে তাঁকে পাবনা শহরের খেয়াঘাট পাড়া এলাকার ‘খন্দকার টাওয়ার’-এ জহুরুলের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। বিচার পাওয়ার আশায় ভুক্তভোগী নারী থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিনভর চেষ্টা করার পর রাত ১২টার দিকে পুলিশ একটি লিখিত এজাহারে তাঁর স্বাক্ষর রেখে তাঁকে বাড়িতে ফেরত পাঠায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জহুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের শ্যালক ও তার পিএস পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখাতেন তিনি। এমপির নাম ভাঙিয়ে টিআর ও কাবিখার চাল কালোবাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি, ঢাকা-পাবনায় ফ্ল্যাট, জমি ও গাড়ি করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এছাড়া তাঁর ওই ফ্ল্যাটে নিয়মিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের আসর বসতো বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে জহুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বিজ্ঞাপন

পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আক্তারুজ্জামান আখতার জানান, দীর্ঘদিন ধরে জহুরুলের বিরুদ্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করে আসছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ​

এদিকে জহুরুল ইসলাম ও পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে ১২ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টায় এক মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন সচেতন পাবনার নারী সমাজ ও পাবনাবাসী।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। সচেতন মহল অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

👁️ 222 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *