সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুতে শোক ও প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের দাবি

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বরিশাল বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

এস এম আজাদ হোসেন, (বরিশাল)৷ :  বরিশালের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবার ও স্বজনদের জন্য নয়,পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যই এক গভীর বেদনার ঘটনা।


বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে পুলক চ্যাটার্জি দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি সাংবাদিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকের জীবনের এমন পরিণতি আমাদের সবাইকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে।

বিশেষ করে তাঁর রেখে যাওয়া পাঁচটি চিরকুটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সেখানে পারিবারিক বিষয়,স্বজনদের প্রতি দায়িত্ব এবং কর্মস্থল-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার কথা জানা গেছে। এর মধ্যে দৈনিক সমকালে তাঁর পাওনা অর্থ আদায় করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধের বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

যদি সত্যিই দীর্ঘদিন তাঁর পাওনা অর্থ পরিশোধ না হয়ে থাকে,তাহলে সেই আর্থিক অনিশ্চয়তা তাঁর পারিবারিক জীবন,চিকিৎসা এবং সামগ্রিক মানসিক অবস্থাকে কতটা প্রভাবিত করেছিল-তা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


বিজ্ঞাপন

একজন সাংবাদিক দীর্ঘদিন পেশাগত দায়িত্ব পালন করার পর চাকরি হারাবেন,পাওনা অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকবেন,চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বহন করবেন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে থাকবেন-এমন বাস্তবতা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।


বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে পুলক চ্যাটার্জি কেন মৃত্যুর আগে দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে তাঁর অবস্থান ও মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ কী ছিল,তাঁর সঙ্গে কারও কোনো কথা বা সাক্ষাৎ হয়েছিল কি না-এসব বিষয়ও যথাযথ তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।

আমি মনে করি,তাঁর মৃত্যুকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট সব পারিপার্শ্বিক কারণ নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। চিরকুটের বক্তব্য,চাকরির পরিস্থিতি, পাওনা অর্থ, চিকিৎসাজনিত ব্যয়,পারিবারিক চাপ এবং মৃত্যুর পূর্ববর্তী সময়ের ঘটনাগুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত বাস্তবতার কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব।

কোনো ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের দায়িত্বে অবহেলা কিংবা আইনগত দায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফলও স্বচ্ছভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।

পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু আমাদের গণমাধ্যম জগতের একটি কঠিন বাস্তবতার দিকেও চোখ ফেরায়। সাংবাদিকদের বেতন ও পাওনা অর্থ সময়মতো পরিশোধ,চাকরির নিরাপত্তা,চিকিৎসা সহায়তা এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।

আমি পুলক চ্যাটার্জির শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি এবং একই সঙ্গে দাবি জানাই-এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পেছনের সব প্রাসঙ্গিক বিষয় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে তদন্ত করা হোক। (এস এম আজাদ হোসেনঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও সোস্যাল এক্টিভিস্ট।)

👁️ 181 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *