
মো:রফিকুল ইসলাম আনসারি, (সিলেট)৷ : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ও লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্য বাহী কৈলাশ টিলা।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধ্যাত্নিক ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করলেও দীর্ঘ দিন ধরে পর্যটন সম্ভাবনাময় এ স্থানটি রয়েছে অনেকটা অবহেলিত।

স্থানীয় দের দাবি কৈলাশ টিলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সিলেটের আধ্যাত্নীক ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায়।
লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, হযরত শাহ্ জালাল (র:) – এর সফর সঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ্ নুর (র:)এই টিলায় নির্জনে ধ্যান -সাধনায় সময় কাটাতেন। টিলার নিরবতা,সবুজ প্রকৃতি ও নির্জন পরিবেশ তার সাধনার জন্য উপযোগী ছিল বলে স্হানীয়দের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে।
কই লাশ’ থেকে কৈলাশ : কৈলাশ নামকরণের সঙ্গে ও জড়িয়ে রয়েছে একটি লোককথা। স্হানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী হযরত শাহ্ নুর (র:) এর মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় অংশ নিতে এসে উপস্থিত লোকজন কাফনের কাপগ ছাড়া লাশ দেখতে না পেয়ে বিন্মিত হন।তখন সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় অনেকে বলেন ওঠেন ‘কই লাশ’? লোকমুখে প্রচলিত এই ‘কই লাশ’ শব্দ থেকেই পরবর্তীতে ‘কৈলাশ ‘নামের প্রচলন হয়েছে বলে স্হানীয়দের ধারণা। সেই থেকেই টিলা টি পরিচিত পায় কৈলাশ টিলা নামে।

কর্তৃপক্কের সুদৃষ্টি কামনা : স্হানীয়দের প্রত্যাশা, গোলাপগঞ্জ উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, পর্যটন কতৃপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো কৈলাশ টিলার সম্ভাবনার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।

বিজ্ঞাপন
সরেজমিন পরিদর্শন, সম্ভাবতা যাচাই এবং স্হানীয় দের মতামতের ভিত্তিতে একটি বাস্তব সম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে কৈলাশ টিলা হয়ে উঠতে পারে গোলাপগঞ্জের অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন গন্তব্য। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আধ্যাত্নিক ইতিহাস ও লোক ঐতিহ্য ও পরিচিক হতে পারে নতুন প্রজন্মের কাছে।
মাটির নিচে গ্যাস সম্পদের সম্ভাবনা আর মাটির উপরে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য — সব মিলিয়ে কৈলাশ টিলা যেনো সম্ভাবনার এক অপূর্ণ অধ্যায়। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্কের কার্যকর উদ্যোগ।
