ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া রেসিংয়ে প্রবাসী নিহত: ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর জন দুর্ভোগ দুর্ঘটনার সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি  :  ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির অবৈধ রেসিং বন্ধ এবং ‘জিপি গ্রুপ’-এর রেসারের ধাক্কায় নিহত প্রবাসী হৃদয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।


বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় ধলেশ্বরী টোল প্লাজার সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহাসড়কে রেসিং বন্ধসহ ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।

জানা গেছে, , গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রেসার গ্রুপ ‘জিপি গ্রুপ’-এর এক সদস্যের বেপরোয়া গতির গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন প্রবাসী হৃদয়।


বিজ্ঞাপন

স্বজনদের অভিযোগ, নম্বরপ্লেটবিহীন ওই গাড়িটি ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার গতিতে রেস করছিল। এ ঘটনায় সরকার বাদী হয়ে মামলা করলেও এখন পর্যন্ত ঘাতক কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং জিপি গ্রুপের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয়নি কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা। হাইওয়েতে সিসি ক্যামেরা থাকলেও পুলিশ ফুটেজ দিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।


বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে নিহত হৃদয়ের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার মতো আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে তাদের যেন শাস্তি হয়। এই রেসাররা যেন আর রাস্তায় না থাকে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে হাসারা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, “ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে রেস করার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রেসার গ্রুপের সদস্য বাইকারের হাতে একজন নিহত হয়, যা আমি নিজেও দেখেছি। আজ তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার পরিবার বাইক রেস নিষিদ্ধকরণের দাবিতে মানববন্ধন করছে।

আমরা এখন থেকে যাদের লাইসেন্স নেই, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালায়, অবৈধ হর্ন বা হলার ব্যবহার করে এবং হেলমেট ব্যবহার করে না, তাদের গাড়ি আটক করে সরাসরি ডাম্পিং করবো।”
নিহত হৃদয়ের স্বজন ও স্থানীয়রা মানববন্ধনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৬টি দাবি তুলে ধরেন  – ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ রেসিং প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও পুলিশি নজরদারি জোরদার করতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ সময় ও স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রচলিত আইনানুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অতিরিক্ত উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী এবং অনুমোদনবহির্ভূতভাবে পরিবর্তিত সাইলেন্সার ব্যবহারকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানসমূহ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তরুণদের মধ্যে দায়িত্বশীল মোটরসাইকেল চালনা, অতিরিক্ত গতি ও রেসিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

👁️ 25 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *