পাবনার সাঁথিয়ায় সেতু নির্মাণকাজে বিরোধ  :  ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্তভঙ্গ ও যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে কাজে বাধা দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি :  পাবনার সাঁথিয়ায় ইছামতি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সাব-কন্ট্রাক্টর ও স্থানীয় যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগে জানা যায়, ঠিকাদার হারুনর রশীদের বিরুদ্ধে সাব-কন্ট্রাক্টরদের সঙ্গে করা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, নির্মাণসামগ্রী আটকে রাখা এবং পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, নির্মাণকাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কয়েকজন যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।

এলজিইডির সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়ন ও খানমাহমুদপুর এলাকার ইছামতি নদীর ওপর ১২৪ দশমিক ২০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে ওই এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হবে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেতু নির্মাণের কাজ পরিচালনার জন্য ঠিকাদার হারুনর রশীদ এনামুল হক রহিম এবং মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করার বিষয়ে চুক্তি করেন। চুক্তির ভিত্তিতে তার ঢাকা এবং রাজশাহী থেকে লোকবল ও প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী নিয়ে সাঁথিয়ায় এসে কাজ শুরু করে। তবে কাজ শুরুর পর চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।


বিজ্ঞাপন

সাব-কন্ট্রাক্টরদের অভিযোগ, পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে ঠিকাদার হারুন চুক্তির শর্ত থেকে সরে যান। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী আটকে রেখে উল্টো তাদের কাছেই টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে থানায় অভিযোগ দেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নির্মাণকাজে শ্রমিক নিয়োগ ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ , জোড়করে অন্যের জমি ব্যবহার এবং স্থানীয় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবদল নেতা প্রতিবাদ ও প্রশ্ন তোলার পর তাদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় যুবদল নেতা বাবুল,মোক্তার,রাজিব,রুবেল এবং জাহিদের বিরুদ্ধে।

তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি কিংবা নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার সঙ্গে তারা জড়িত নন। বরং সেতু নির্মাণকাজের বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে এলজিইডি অফিস।এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো নথিতেও নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন করে সেতুর কাজ স্বাভাবিক করা হোক। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থব্যয়, নির্মাণকাজের মান, চুক্তির শর্ত, নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার, জমি ও সড়ক ব্যবহারের বিষয়সহ উত্থাপিত সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। জনস্বার্থে সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করবে।

👁️ 348 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *