ফ্লোরিডায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত: ৬ কিলোমিটার দূরে মিলল গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ, তদন্তে নতুন সূত্র

Uncategorized আন্তর্জাতিক জন দুর্ভোগ দুর্ঘটনার সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   :  যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নয়জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত ব্যক্তিগত উড়োজাহাজটির গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।


বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে উড়োজাহাজটির লেজের একটি নিয়ন্ত্রণ অংশ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই উড়োজাহাজটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল ।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) সদস্য টম চ্যাপম্যান মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া অংশটি উড়োজাহাজের বাম পাশের এলিভেটরের বড় একটি অংশ। এটি উড়োজাহাজের নাক ওপরে বা নিচে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তদন্তকারীদের মতে, এলিভেটরের এই অংশ অক্ষত না থাকলে উড়োজাহাজের নাক নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সময় সেটিকে আবার ওপরে তোলা পাইলটের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অংশটি তিন টুকরো হয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরে ছড়িয়ে পড়েছিল।


বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা এপি ও সাময়িকী পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়ারজেট ৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি গত রোববার (১ নভেম্বর) টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকরস এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়। এতে থাকা দুই পাইলট ও সাত যাত্রীসহ নয়জনের সবাই নিহত হন।


বিজ্ঞাপন

টম চ্যাপম্যান বলেন, উড়োজাহাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে এত দূরে পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, আঘাতের আগেই সেটি বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তবে ওই অংশ খুলে যাওয়াই দুর্ঘটনার কারণ, নাকি উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সৃষ্ট প্রচণ্ড চাপের কারণে তা বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজটির সহকারী পাইলট নাতালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের সময় উড়োজাহাজে বরফ জমার কথা জানিয়েছিলেন।

একই সঙ্গে তীব্র ঝাঁকুনিতে উড়োজাহাজটি ৭০০ ফুটের বেশি ওপর-নিচে দুলছিল বলেও জানান তিনি। দুর্ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট আগে প্রেমিককেও বার্তা পাঠিয়ে বরফ জমা ও ঝাঁকুনির বিষয়টি জানিয়েছিলেন নাতালিয়া। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এনটিএসবি সদস্য চ্যাপম্যান জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্ঘটনার আগে বৃষ্টি, উড়োজাহাজে বরফ জমা এবং ঝাঁকুনির কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনই কোনো একটি বিষয়কে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

উড়োজাহাজটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আঘাতের তীব্রতায় মাটিতে বড় গর্ত তৈরি হয়। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করছেন। তবে কিছু অংশ এতটাই ক্ষুদ্র হয়ে গেছে যে সেগুলো উড়োজাহাজের কোন অংশের, তা শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত দুর্ঘটনার আঘাতে তৈরি গর্তের ভেতরে অনুসন্ধান শুরু করেননি তদন্তকারীরা। বুধবার থেকে সেখানে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

নিহত যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন অস্টিনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প এবং তাঁদের চার বছর বয়সী মেয়ে এমা ও দুই বছর বয়সী ছেলে চার্লি। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আনি্তা মারিয়া সেতিনা এবং দুই পারিবারিক বন্ধু র‍্যাচেল রিড ও চারমি ফেয়ার।

উড়োজাহাজটির পাইলট জেফ গ্রেগরির বয়স ছিল ৫৫ বছর। আর সহকারী পাইলট নাতালিয়ার বয়স ছিল ২০ বছর।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনটিএসবি। সংস্থাটির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে। তবে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে (তথ্যসূত্র: পিপলডটকম)

👁️ 24 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *