!! গণপূর্তে ‘পদোন্নতি প্যাকেজ’ !! দেড় কোটি টাকার উৎকোচের অভিযোগ—৭৫ লাখ অগ্রিম  !!  টাকা ফেরত চেয়েও সাড়া নেই !!   ট্রাইব্যুনালের শোকজের মধ্যেই পদোন্নতির তৎপরতা; নথিতে সরোয়ার জাহান বিপ্লবের ভূমিকা  !!  ক্যাডার-নন-ক্যাডার বিরোধে ১৪ বছর ধরে অচলাবস্থা !!

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক  : গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব দেওয়াকে ঘিরে এবার উঠেছে দেড় কোটি টাকার কথিত উৎকোচ বাণিজ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লব।


বিজ্ঞাপন

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের পৃথক দুটি সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে কথিতভাবে ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। পদোন্নতির বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রশাসনিক জটিলতা ও আদালতের হস্তক্ষেপে বিলম্বিত হলে জাহাঙ্গীর আলম ওই অর্থ ফেরত চান।

কিন্তু সারওয়ার জাহান বিপ্লব টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করছেন বলে সূত্রগুলোর দাবি। ফলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ, একই পদে পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব দেওয়ার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা চলমান। ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর আদেশে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রশ্ন উঠেছে—আদালতে পদোন্নতির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ, অথচ একই প্রক্রিয়া ঘিরে কোটি টাকার কথিত লেনদেনের অভিযোগ—তাহলে গণপূর্তের পদোন্নতি প্রক্রিয়ার নেপথ্যে কী চলছে?

৭৫ লাখ অগ্রিম, দেড় কোটি টাকার ‘প্যাকেজ’ !  মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পৃথক দুটি সূত্রের দাবি, তিন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেড় কোটি টাকার কথিত আর্থিক সমঝোতা হয়েছিল।


বিজ্ঞাপন

সূত্রগুলোর দাবি, এর অংশ হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে।


বিজ্ঞাপন

এরপর জাহাঙ্গীর আলম অগ্রিম দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তা ফেরত দিতে সারওয়ার জাহান বিপ্লব গড়িমসি করছেন বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

এই অভিযোগ সত্য হলে সরকারি পদোন্নতির মতো একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের বিষয়টি গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে পরিণত হতে পারে। আর অভিযোগটি সত্য না হলে সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে প্রমাণসহ পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া—৭৫ লাখ টাকার অভিযোগের ভিত্তি কোথায় এবং কেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

ট্রাইব্যুনালের শোকজ—তবুও কেন পদোন্নতির তৎপরতা ?এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।  এ.টি. মামলা নং ২৭৯/২০২৬-এ মো. আবদুল হালিমসহ ১০ কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ৩ মার্চ ২০২৬-এর একটি স্মারকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন।

ট্রাইব্যুনালের ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর আদেশে বলা হয়েছে, ওই স্মারকে কর্তৃপক্ষ মত দিয়েছে যে, গ্রেড-৬-এ সরাসরি নিয়োগ পাওয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭ প্রযোজ্য নয় এবং তাদের গ্রেড-৪ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্যাডার সার্ভিসে এনক্যাডারভুক্ত নন এবং তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রযোজ্য। পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলে বাদীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তারা আদালতে দাবি করেন।

ট্রাইব্যুনাল এরপর কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন— কেন ৩ মার্চ ২০২৬-এর স্মারক এবং এর ভিত্তিতে পদোন্নতি/চলতি দায়িত্বের পরবর্তী কার্যক্রম আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। মামলার পরবর্তী সার্ভিস রিটার্নের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৬। এমন অবস্থায় প্রশ্ন—বিষয়টি বিচারাধীন থাকার মধ্যেই পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ কেন ?

নথিতে সরোয়ার জাহানের সরাসরি ভূমিকা  : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২৬ অক্টোবর ২০২৫-এর স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-১৩৫৭ ঘেঁটে দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম)-এর তিনটি শূন্য পদে তিন নির্বাহী প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবটির স্বাক্ষরকারী ছিলেন মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন)।

প্রস্তাবিত তিন কর্মকর্তা— মো. জিয়াউর রহমান—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম ডিজাইন বিভাগ-১, ঢাকা। মো. জাহাঙ্গীর আলম—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), রিজার্ভ, সংযুক্ত গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকা। তাসফিন মুহাইমীন হক—নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম প্ল্যানিং বিভাগ-৩, ঢাকা। তাদের যথাক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী গণপূর্ত ই/এম সার্কেলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থাৎ, যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ঘিরে এখন অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নথিতেই সারওয়ার জাহান বিপ্লবের স্বাক্ষর রয়েছে। এটি অবশ্যই অর্থ লেনদেনের প্রমাণ নয়; তবে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে তার ভূমিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

১৪ বছরের ক্যাডার-নন-ক্যাডার জটিলতা : গণপূর্ত ই/এম বিভাগে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার বিরোধ নতুন নয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে এর জট খুলছে না। ২০১১ সালে পিএসসির মাধ্যমে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। শতাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে ১৪ জন নিয়োগ পান। তাদের মধ্যে ১১ জন ২০১২ সালে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের ২৭তম, ২৮তম ও ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাদের নিয়োগ ও ক্যাডার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে । এক পক্ষের দাবি, ওই ১১ কর্মকর্তা নন-ক্যাডার নিয়োগপ্রাপ্ত। অন্য পক্ষের দাবি, পিএসসির মাধ্যমে তাদের ক্যাডার পদেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে পদোন্নতি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা নিয়েও বড় প্রশ্ন : ২৭তম, ২৮তম ও ৩০তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরাসরি উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রয়োজনীয় সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা সম্পন্ন না করেই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তাদের যুক্তি, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ৮(২) অনুযায়ী বিভাগীয় ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষার শর্ত পূরণ না করলে উচ্চতর পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আইনগত বাধা রয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বক্তব্য, পিএসসি তাদের নিয়োগ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিতে তাদের ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ বিরোধটি মূলত দুই প্রশ্নে— তারা ক্যাডার না নন-ক্যাডার ? এবং— তারা কোন বিধির অধীনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে যাওয়ার যোগ্য ? এই দুটি প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিই পুরো সংকটের কেন্দ্রবিন্দু।

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তও চলছে৷ :  নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখার নথিতে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ৯ জুলাই ২০২৬ তদন্ত কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছিল। কমিটিতে ছিলেন রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদিউল আলম এবং গণপূর্ত ই/এম ডিজাইন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী অজান্তা শুক্লা তন্মা। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব কতটা যুক্তিসঙ্গত—সেটিও এখন প্রশ্নের বিষয়।

অবৈধ নিয়োগ’ নাকি বৈধ ক্যাডার নিয়োগ ? সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিসিএস কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ রয়েছে—তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেবল মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং নিয়োগের সময় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়ও ছিল।

অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, পিএসসিই তাদের নিয়োগ দিয়েছে এবং নিয়োগের বৈধতা নিয়ে সরকারি দপ্তরগুলোর নথিতে ভিন্ন অবস্থান নেই। ফলে এখানে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে নিয়োগের মূল বিজ্ঞপ্তি, পিএসসির নিয়োগসংক্রান্ত নথি, আদালতের সব আদেশ এবং ক্যাডারভুক্তির সরকারি প্রজ্ঞাপন একসঙ্গে পরীক্ষা করাই হবে প্রকৃত সত্য নির্ধারণের উপায়।

প্রধান প্রকৌশলীর নীরবতা : দেড় কোটি টাকার কথিত উৎকোচ বাণিজ্য, ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লব এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের নিয়োগ ও ক্যাডার মর্যাদা বৈধ বলে দাবি করে আসছেন।

এখন মন্ত্রণালয়ের সামনে বড় পরীক্ষা : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সামনে এখন মূলত কয়েকটি প্রশ্ন—৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কি তদন্ত করা হবে ? দেড় কোটি টাকার কথিত পদোন্নতি প্যাকেজের অভিযোগের পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা কি অনুসন্ধান করা হবে ?

৩ মার্চ ২০২৬-এর স্মারকের আইনগত ভিত্তি কী ? প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কারণ দর্শানোর আদেশের পর সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি/চলতি দায়িত্বের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে ? ২০১১-১২ সালের নিয়োগপ্রাপ্ত ১১ কর্মকর্তার প্রকৃত ক্যাডার মর্যাদা কী ?সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা ও বিভাগীয় পরীক্ষার শর্ত তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না ? জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের মধ্যে তাকে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবের যৌক্তিকতা কী ?সবশেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সরকারি পদোন্নতি কি বিধি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে, নাকি কথিত ‘পদোন্নতি প্যাকেজ’-এর মাধ্যমে?

গণপূর্ত অধিদপ্তরের দীর্ঘ ১৪ বছরের ক্যাডার-নন-ক্যাডার জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে শূন্য পদ পূরণ, মাঠ প্রশাসন এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে। আর যদি ৭৫ লাখ টাকা অগ্রিম ও দেড় কোটি টাকার কথিত উৎকোচের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে এটি শুধু পদোন্নতির অনিয়ম নয়—সরকারি প্রশাসনের অভ্যন্তরে দুর্নীতির একটি গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তদন্তের দাবি রাখবে।
তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

👁️ 79 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *