সিরাজগঞ্জ নয়, সারা বাংলাদেশের মানবিক নাম মামুন বিশ্বাস – ৩৮ বছরে ১৫৬ জন ইয়াতিম ও অসহায় কন্যার বিয়ে সম্পন্ন

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন মানবিক খবর সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

মোঃ শহিদুল ইসলাম, (সিরাজগঞ্জ)  :  শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে পরিচিতি পেয়েছেন মামুন বিশ্বাস। অসহায়, দরিদ্র, ইয়াতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন

মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই মানুষের সহযোগিতা নিয়ে ১৫৬ জন ইয়াতিম ও অসহায় কন্যার বিয়ে সম্পন্ন করেছেন মামুন বিশ্বাস। বিয়ের আয়োজন থেকে শুরু করে স্বর্ণালংকার, খাবার, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে তিনি নিজ উদ্যোগে মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও সহযোগিতা সংগ্রহ করেন। এরপর সেই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান।

তবে তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত প্রাণীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সুস্থ করে পুনরায় তাদের নিজস্ব পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজও করে থাকেন তিনি। মানুষের পাশাপাশি সৃষ্টিজগতের প্রতিটি প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকেই এসব কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান মামুন বিশ্বাস।

অসহায় মানুষের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে দোকান করে দেওয়া এবং অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা করাও তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম অংশ।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়ান তিনি। কোথাও কোনো অসহায় মানুষের দুর্দশার খবর পেলে সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোনো অসহায় মানুষ, ইয়াতিম, দরিদ্র পরিবার কিংবা কন্যার বিয়ের জন্য সহযোগিতার আবেদন জানালে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক অর্থ সংগ্রহ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞাপন

মামুন বিশ্বাসের ভাষায়, “এদেশে অসহায় মানুষদেরকে টাকা দেওয়ার লোক অনেক আছেন, শুধু বিশ্বস্ত লোকের অভাব।” তিনি আরো বলেন ,আমরা সকলেই যদি আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতার দিক সমাজের অসহায় মানুষ এবং অসুস্থ প্রাণী দের প্রতি হাত বাড়িয়ে দেই তাহলে তারা অবশ্যই ভালো থাকবেন । মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাকে কাজে লাগিয়ে তিনি অসহায় মানুষের জন্য সংগৃহীত অর্থ সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে তিনি একাধিক সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। তবে পুরস্কার বা স্বীকৃতির চেয়ে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করেন তিনি।

মামুন বিশ্বাস বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজ করে যেতে চান। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সৃষ্টিজগতের প্রতিটি প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করাই তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।

মানবিকতার এই নিরলস পথচলায় মামুন বিশ্বাস আজ অনেকের কাছে শুধু একজন ব্যক্তি নন—বরং অসহায় মানুষের ভরসার একটি নাম। তাঁর কর্মকাণ্ড সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম মানুষদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

👁️ 27 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *