দেশের প্রত্যেক সাংবাদিক করোনার টিকা পাবেন

এইমাত্র জাতীয় রাজধানী সাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা মোকাবিলায় সরকারের ‘অব্যবস্থাপনা’ রয়েছে এমন অভিযোগ মানতে চান না স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাড়াতাড়ি ট্রিটমেন্ট প্রটোকল করেছি। কেউ জানতো না কিভাবে ট্রিটমেন্ট করতে হবে। আমরা দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করেছি। আমাদের মিডিয়া ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। তারপরও আপনারা বলেছেন অব্যবস্থাপনা। আমি এটা মানতে পারলাম না। যেখানে কিভাবে চিকিৎসা করতে হবে- কেউ জানত না। তাহলে অব্যবস্থাপনা কিভাবে হয়। আমরা জানলাম টেস্ট করতে হবে, একটি ল্যাব থেকে ২০০ ল্যাবে নিয়ে গেলাম।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে বেসরকারি সেক্টরে কিছু দুর্নীতি হয়েছিল। আমরা ছাড় দেইনি। শাহেদ, সাবরিনার কথা এসেছে। আজকে তারা জেলে। আমরা কাউকে ছাড় দেইনি। যেখানে অপরাধ হয়েছে অনিয়ম হয়েছে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা দিতে চায়নি, আমরা ডেকে ডেকে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আজকে ইউরোপ, ইতালি, স্পেন, জার্মানি পারছে না, তাদের হাসপাতালে জায়গা নেই। যুক্তরাজ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সেই তুলনায় আমরা ভালো আছি।’

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

করোনা মোকাবিলায় সফল হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তিনি বলেন, ‘সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন ২৫ থেকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে আসবে। যারা টিকা নিয়ে কাজ করছে, সবার সঙ্গে কথা বলে এটা নিয়ে আসা হচ্ছে। আশা করি সবাইকে আমরা টিকা দিতে পারবো।’

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আশা করি দেশের প্রত্যেক সাংবাদিক করোনার টিকা পাবেন। যারা ঢাকায় কর্মরত তারা প্রথম ধাপেই টিকা পাবেন বলে আশা করছি।

সেরামের পাশাপাশি ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে কিছু টিকা দেবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার আমাদেরকে কিছু টিকা উপহারসরূপ দেবে। তবে, সেটা কি পরিমাণ তা এখনই বলতে পারবো না। অল্প সময়ের মধ্যে সেটা চলে আসবে। হয়তো প্রথম লট পাওয়ার আগেই উপহারের টিকা চলে আসতে পারে। এর পাশাপাশি অন্যান্য যারা টিকা তৈরি করছে যেমন রাশিয়া, সানোফি, মর্ডানা, ফাইজারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা করোনা যেভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছি। ঠিক সেভাবে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগে সফল হবো। ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য প্রায় ৪২ হাজার জনকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে।’

‘এছাড়া ৬৪ জেলার মধ্য ২৮টি জেলায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণাগার তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাড়ে ৭ হাজার কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।’

সূত্র মতে, দেশে প্রথম ধাপে সেরামের ৫০ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন আসবে। তবে প্রথম ধাপে ২৫ লাখ নয়, ৫০ লাখ ডোজই প্রয়োগ করা হবে। আগে সিদ্ধান্ত ছিল, ৫০ লাখের ২৫ লাখ দেয়া হবে। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০ লাখই প্রয়োগ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আজকে যে দেশের করোনা ভালো আছে, সে দেশের অর্থনীতি ভালো আছে। আমাদের অর্থনীতি ভালো আছে-কারণ ‘করোনা ইস আওয়ার আন্ডার কন্ট্রোল, দ্যাটস হোয়াই ইকোনোমি ইস রানিং প্রোপ্রালি’।

জাহিদ মালেক আরো বলেন, ‘মাস্ক একটা কার্যকর ব্যবস্থা এটা কেউ জানত না। আমরা ক্যাম্পেইন করেছি, সার্ভিস পেতে হলে মাস্ক পরতে হবে। নো মাস্ক নো সার্ভিস- পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছি, উনি আনন্দের সঙ্গে তা অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে প্রাইভেট সেক্টরও ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ চালু করেছে। যা খুব কার্যকর হয়েছে।’