​এসেনসিয়াল ড্রাগসের ব্যবস্থাপক পলাশ কুমার ঠাকুরকে বরখাস্ত: জালিয়াতি, চুরি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) গোপালগঞ্জ প্ল্যান্টের ভান্ডার  বিভাগের ব্যবস্থাপক পলাশ কুমার ঠাকুর।


বিজ্ঞাপন

মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : ​ রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) গোপালগঞ্জ প্ল্যান্টের ভান্ডার  বিভাগের ব্যবস্থাপক পলাশ কুমার ঠাকুরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়োগে জালিয়াতি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি, চাল চুরি, দায়িত্ব অবহেলা এবং নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগে তাকে এই শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল  বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর, ২০২৫) কোম্পানির প্রশাসন ও এইচআরএম বিভাগের ইনচার্জ এবং ব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।


বিজ্ঞাপন

বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, পলাশ কুমার ঠাকুর ২০০০ সালের ৭ মে প্রথমে ‘শ্রমিক’ পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে পূর্বের পদ থেকে পদত্যাগ না করেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সার্ভিস রুলস বহির্ভূতভাবে ‘কনিষ্ঠ কর্মকর্তা’ হিসেবে নিয়োগ নেন, যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ।


বিজ্ঞাপন

​এরপর ২০০৭ সালে প্রশাসন বিভাগের ক্যান্টিনের দায়িত্বে থাকাকালে চাল চুরির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে টার্মিনেট (চাকরিচ্যুত) করা হয়। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে, একজন টার্মিনেটকৃত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও ২০১০ সালে তিনি পুনরায় সার্ভিস রুলস লঙ্ঘন করে ‘ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ হিসেবে নিয়োগ বাগিয়ে নেন।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চাকরিতে যোগদানের মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে উপ-ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পান, যার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তর অডিট আপত্তি তোলে। সর্বশেষ ২০২১ সালে আবারও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ব্যবস্থাপক পদে উন্নীত হন।

পলাশ কুমার ঠাকুরের বিরুদ্ধে তার অধীনস্থ এক নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া, তার দায়িত্ব অবহেলার কারণে ২০১১ সালে গোপালগঞ্জ পেনিসিলিন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যার দায় স্বীকার করে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন।

কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এ ধরনের অসদাচরণ, যৌন হয়রানি এবং জালিয়াতি কোম্পানির সার্ভিস রুলসের ৩৫ (iii & v) ধারা এবং নিয়োগপত্রের ১০ নং শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই অপরাধের দায়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে কোম্পানির সার্ভিস রুলসের ৩৬ সাব ক্লজ ১(বি) মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

👁️ 846 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *