লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত কার্যালয়ে ঠিকাদারের ‘তাণ্ডব’: নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুমকি, থানায় জিডি

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি (লক্ষীপুর)  : লক্ষ্মীপুরে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুমকি দেওয়া এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কার্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২ মার্চ) বিকেলের দিকে ঠিকাদার মো. শিপন লাহাড়ি হঠাৎ করেই লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কার্যালয়ে ঢুকেই তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুর রহমান চৌধুরীসহ অফিসের অন্যান্য স্টাফদের উদ্দেশ করে হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি মারধরের জন্য তেড়ে যান বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।


বিজ্ঞাপন

ঘটনার পরপরই গণপূর্ত বিভাগের নির্দেশে ওই কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, বহিরাগত হিসেবে অফিসে ঢুকে শিপন লাহাড়ি অশোভন আচরণ করেছেন, কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং মারধরের হুমকি দিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন

উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, “শিপন লাহাড়ি অফিসের নিয়ম-কানুন না মেনে কার্যালয়ে এসে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তিনি হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেই অফিসের নির্দেশে থানায় জিডি করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করতে সেখানে গিয়েছি এবং সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়াই আমার কাজ। কিন্তু শিপন লাহাড়ি কার্যালয়ে এসে যে আচরণ করেছেন তা অত্যন্ত অশোভন। এতে আমি বিব্রতবোধ করছি।”

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার শিপন লাহাড়ি। মোবাইলফোনে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা পুরোপুরি সঠিক নয়। কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিয়ে বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে।”

এদিকে জিডির তদন্তের দায়িত্বে থাকা লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নুরুল করিম চৌধুরী জানান, ঘটনাটি নিয়ে করা সাধারণ ডায়েরি আদালতের অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি দপ্তরে ঢুকে এমন আচরণের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

👁️ 28 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *