ক্ষমতার পালাবদলে মুখোশ বদল : লীগের ডোনার মোস্তফা কামালের তারেক রহমান–সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তি !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সারাদেশ

৭১ টিভির মালিক ও  মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ কালে লাল বৃত্তাকার চিহ্নের মধ্যে।


বিজ্ঞাপন

বিশেষ প্রতিবেদক :   রাজনীতির অদ্ভুত বাস্তবতায় এক সময়ের “শত্রু” হঠাৎ হয়ে ওঠে “সাক্ষাৎপ্রার্থী”। ঠিক এমনই এক বিস্ময়কর দৃশ্য রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনার ঝড় তুলেছে—আওয়ামী লীগের অন্যতম ডোনার হিসেবে পরিচিত মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

যে মোস্তফা কামাল এক সময়… রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোস্তফা কামাল শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, বরং গত এক দশকে আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ একটি শক্তিশালী প্রোপাগান্ডা বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তার মালিকানাধীন ৭১ টিভি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে— খালেদা জিয়াকে নিয়ে তথাকথিত “এতিমের টাকা চুরি” বয়ানকে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও ন্যাস্টি ভাষায় প্রচার প্রচারণা, তারেক রহমানকে নিয়মিতভাবে “দেশদ্রোহী” হিসেবে উপস্থাপন করা, বিএনপি–জামায়াতকে “সন্ত্রাসী জোট” বানিয়ে টকশো ও বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার, আলেম–ওলামাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর আলোচনা ও চরিত্রহনন, সমালোচকদের ভাষায়, ৭১ টিভি ছিল আওয়ামী লীগের “অঘোষিত মিডিয়া মেশিন”—যার মাধ্যমে দলটির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পেত।


বিজ্ঞাপন

ডোনার, প্রোপাগান্ডা ও অর্থপাচারের অভিযোগ : রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত অভিযোগ অনুযায়ী, মোস্তফা কামাল ছিলেন আওয়ামী লীগের বড় অর্থদাতা। দলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি শুধু মিডিয়া প্রোপাগান্ডা নয়, বরং ব্যবসায়িক সুবিধাও ভোগ করেছেন—এমন অভিযোগ বহুদিনের। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো, আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার—যা নিয়ে এখনো কোনো স্বচ্ছ তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে দাবি সমালোচকদের।


বিজ্ঞাপন

ক্ষমতার বাতাস বদলাতেই নতুন দরবার  ?  সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো— দেশের যেসব বিতর্কিত ব্যবসায়ী নানা কৌশলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তাদের মধ্যে সবার আগে মোস্তফা কামালের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

যে তারেক রহমানকে এক সময় তার মিডিয়া সাম্রাজ্য দিয়ে “রাষ্ট্রের শত্রু” বানানো হয়েছিল, আজ সেই তারেক রহমানের কাছেই প্রথম দৌড়ে হাজির হওয়া—এটি কি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি ক্ষমতার ভবিষ্যৎ আঁচ করে অবস্থান বদল? দালালি চক্র কি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে?

একই সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন এ কে আজাদ—যিনি শেখ হাসিনাকে নিয়ে কবিতা লেখার জন্য পরিচিত। গুলশানে সাক্ষাতের জন্য ঘোরাঘুরি ও ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠেছে— সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রেতাত্মারা কি এখন নতুন ক্ষমতার ছায়া খুঁজছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক ব্যক্তি উদ্যোগ নয়; বরং একটি পুরোনো দালালি নেটওয়ার্কের রিব্র্যান্ডিং অপারেশন।

জনপ্রশ্ন : যারা গত ১৫ বছর গণতন্ত্র, বিরোধী রাজনীতি ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে বিষ ছড়িয়েছে—তারা কি এক সাক্ষাতে “নিরপেক্ষ” হয়ে যায়  ?  অর্থপাচার ও প্রোপাগান্ডার অভিযোগে অভিযুক্তরা কি আবারও ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার রাস্তা খুঁজছে? নতুন বাংলাদেশে কি পুরোনো দালালদের জন্য কোনো জবাবদিহি থাকবে না?

উপসংহার : ক্ষমতার পালাবদল হলেও ইতিহাস মুছে যায় না। মুখ বদলালেই চরিত্র বদলায় না। আজ যারা নতুন দরজায় কড়া নাড়ছে, তারা কি সত্যিই আত্মসমালোচনায় এসেছে—নাকি আবারও সুযোগসন্ধানী দালালি শুরু করতে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দেশবাসী।

👁️ 185 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *