রাষ্ট্রপতি মো : শাহাবুদ্দিন কে অভিশংসণ করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের

Uncategorized আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মো. নাহিদ ইসলাম । দেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি সরাসরি সাংবিধানিক সংকটের প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।


বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থান-এ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ দাবি তোলেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। এ জন্য তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না।”


বিজ্ঞাপন

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা গুরুতর অপরাধের শামিল এবং এ বিষয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।


বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, “সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিশংসন করতে হবে। এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।” তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাসীন মহল এ দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিলেও বিরোধী শিবির এটিকে ‘জনগণের ন্যায়ের দাবি’ হিসেবে তুলে ধরছে।

এদিকে একই ইস্যুতে পৃথক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ; এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য জাতির সামনে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে থেকে এমন বক্তব্য প্রদান রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমর্যাদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি ও শপথ ভঙ্গের অভিযোগ—দুই মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অভিশংসন একটি জটিল ও উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক ঐকমত্যনির্ভর পদক্ষেপ। ফলে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হলে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; বরং তা সংবিধান, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দৃষ্টি সংসদের সম্ভাব্য ভূমিকা ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থানের দিকে।

👁️ 32 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *