! বিশেষ প্রতিবেদন !! গণপূর্ত অধিদপ্তরে ‘ভিআইপি রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেট’ !! আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্যাকডেটে যোগদান !! দ্বৈত বেতন উত্তোলন ও শতকোটি টাকার দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক :  গণপূর্ত অধিদপ্তরে (PWD) বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় সংঘটিত এক অভূতপূর্ব নিয়োগ ও পদোন্নতি কেলেঙ্কারির বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে—বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও বিসিএস পরীক্ষাকে পাশ কাটিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ছাত্রলীগঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তিকে বিসিএস ছাড়াই সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নবম গ্রেডে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ হওয়ার কথা। কিন্তু শেখ হেলাল ও শেখ সেলিমের সুপারিশে এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়ার মাধ্যমে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সমীরণ মিস্ত্রী, জিয়াউর রহমান, মোঃ আবু তালেবসহ ১১ জনকে কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের প্রস্তাব পিএসসিতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান এটিএম আহমেদুল হককে সরাসরি ফোন করে শেখ হাসিনা নির্দেশ দেন—কোনো প্রিলিমিনারি বা লিখিত পরীক্ষা নেওয়া যাবে না, শুধু নামেমাত্র ভাইভা নিয়ে তালিকা অনুমোদন দিতে হবে। পিএসসি বাধ্য হয়ে ভাইভা আয়োজন করে সুপারিশ দেয়।


বিজ্ঞাপন

আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য, ব্যাকডেটে যোগদান ! এই নিয়োগের বিরুদ্ধে বিসিএস কর্মকর্তারা হাইকোর্টে রিট করলে আদালত নিয়োগে স্থগিতাদেশ দেন এবং ১৭টি পদ বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই ওই নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রায় ১১ মাস ব্যাকডেট দেখিয়ে যোগদান করেন এবং চাকরি না করেই গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে বকেয়া বেতন উত্তোলন করেন।


বিজ্ঞাপন

আরও গুরুতর অভিযোগ—এই সময় তাঁরা সবাই অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলেন এবং সেখান থেকেও সরকারি বেতন উত্তোলন করেছেন। অর্থাৎ একই সময়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন গ্রহণ, যা স্পষ্টত সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননার শামিল।

নথিতে উল্লেখ আছে— মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ওই সময় বিআইডাব্লিউটিএ-তে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থেকে বেতন নিয়েছেন, মোঃ আইয়ুব আলী মেরিন একাডেমিতে সরকারি চাকরি করেছেন, মোঃ নাফিজ আহমেদ রাজশাহীতে সরকারি চাকরি করেছেন, অন্যরা বেসরকারি চাকরিতে থেকেও গণপূর্তের বেতন উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ।

শতকোটি টাকার সম্পদের পাহাড় !  অভিযোগে বলা হয়েছে, অবৈধ নিয়োগের পর এই কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পেয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম :  তার বিরুদ্ধে ফিল্ড প্রকল্পে লুটপাট, অবৈধ সম্পদ অর্জন, একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি কেনা এবং নারী সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সরওয়ার্দী উদ্যানে গ্লাস টাওয়ার প্রকল্পে ৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সমীরণ মিস্ত্রী : জাতীয় সংসদ ভবনে টানা সাত বছর পোস্টিংকালে কাজ না করে বিল উত্তোলন, ১০% কমিশন বাণিজ্য, হাসপাতাল প্রকল্পে যন্ত্রপাতি না বসিয়েই বিল তোলা এবং ভারতে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

মোঃ আইয়ুব আলী : ইএম কাঠের কারখানা বিভাগে চাকরিকালে ৫০ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ।

মোঃ আবু তালেব ও এআরএম তৌহিদুর রহমান : ইএম বিভাগে দরপত্র বাণিজ্য ও কমিশন গ্রহণের অভিযোগ। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র নিয়ন্ত্রণে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খানের সঙ্গে যোগসাজশে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে।

পদোন্নতিতেও বিধি লঙ্ঘন :  অভিযোগে বলা হয়েছে, এই কর্মকর্তারা কোনো বিভাগীয় পরীক্ষা বা সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা না দিয়েই মাত্র চার বছরের মধ্যে উচ্চ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা বিদ্যমান চাকরি বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার তাদের জন্য বিশেষভাবে পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য পৃথক পদোন্নতি বিধিমালা না থাকলে তাদের পদোন্নতি আইনসিদ্ধ নয়।

যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চাওয়া হয়েছে : অভিযোগপত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে—মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ কর্মকর্তা, সাবেক সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার  সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার (বর্তমানে ডিমোশনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী), সাবেক এমপি শেখ হেলাল ও শেখ সেলিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান।

এখন প্রশ্ন : আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে কীভাবে ব্যাকডেটে যোগদান হলো ? কীভাবে একই সময়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন উত্তোলন সম্ভব হলো? শতকোটি টাকার সম্পদের উৎস কোথায়? অবৈধ নিয়োগ কি বাতিল হবে? দায়ীরা কি আইনের মুখোমুখি হবেন?

দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরে এই নিয়োগ-দুর্নীতি সিন্ডিকেট এখন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দুদকের তদন্তই এখন পারে এই বহুল আলোচিত ‘ভিআইপি রিক্রুটমেন্ট কেলেঙ্কারি’র প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে।

👁️ 90 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *