
নিজস্ব প্রতিনিধি (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ১২ বছর বয়সী কিশোরী ভিকটিম মৌমিতার গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মের ঘটনায় অবশেষে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ সত্য। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে মামলার রহস্যভেদ করেছে।

ভিকটিম মৌমিতা (১২) ২০২১-২০২২ সালের দিকে রাজশাহীর বাঘা থানার অমরপুর বাউসা গ্রামস্থ তার নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সেখানে অবস্থানকালে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সাথে তার আপন মামা মিঠুনের বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। পরে মিঠুন আত্মগোপন করে।
গত ০৩/০৩/২০২৩ খ্রিঃ তারিখে ভিকটিম এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মাতা বাদী হয়ে ০৯/০৪/২০২৪ খ্রিঃ তারিখে তার ভাই মিঠুনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে বাঘা থানায় মামলা নং-১৩, তারিখ ০৯/০৪/২০২৪ ইং রুজু হয় এবং বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই রাজশাহী জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোঃ জালাল উদ্দিন।

তদন্তের শুরুতে এজাহারনামীয় আসামি মিঠুনকে গ্রেফতার করে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির সাথে মিঠুনের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এতে মামলাটি নেয় নাটকীয় মোড়।

এরপর পিবিআই প্রকৃত আসামীর সন্ধান অব্যাহত রাখে। গভীর অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে ভিকটিমের সৎ পিতা মোঃ মেহেদী হাসান @ রিদয় (২৫) কে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক আসামি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনার সাথে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। সে জানায়, ভিকটিমের মাতা রত্না খাতুনসহ তারা একসাথে বসবাস করত। ভিকটিমের মা রাতের বেলায় ঘুমিয়ে পড়লে তার সৎ পিতা মোঃ মেহেদী হাসান @ রিদয় তাকে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার করত।
পরবর্তীতে ভিকটিমের গর্ভজাত সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষায় আসামি মেহেদী হাসান @ রিদয়ের ডিএনএ’র সাথে পূর্ণ মিল পাওয়া যায়। এতে নিশ্চিত হয়—শিশুটির প্রকৃত পিতা সেই সৎ পিতা নিজেই।
এই মামলায় পিবিআই’র বৈজ্ঞানিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের দক্ষ প্রয়োগ আবারও প্রমাণ করলো—প্রাথমিকভাবে ভুল অভিযুক্ত ব্যক্তি নয়, প্রকৃত অপরাধীকেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পিবিআই’র এই সফল তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
