
নিজস্ব প্রতিবেদক : “বাংলাদেশ আমার অহংকার”- এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দলগতকাল বুধবার ২৮ জানুয়ারি, দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানায় দায়েরকৃত বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ মামলায় এজাহার নামীয় আসামি আলমগীর (৩৮)’কে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার ও গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামি আলমগীর সম্পর্কে ভিকটিমের খালাতো বোনের জামাই। প্রায় ২ বছর পূর্বে ভিমটিমের মায়ের সাথে তার বাবার ডিভোর্সের পর থেকে ভিকটিমের মা তার বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েকে সিংগাইর থানাধীন আজিমপুর রংগের বাজারে তার বোনের বাসায় রেখে হেমায়েতপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করতেন।

প্রায় ১ মাস পূর্বে ভিকটিমের মা চাকুরী ছেড়ে দিয়ে জয়মন্ডপ এলাকায় তার মেয়েকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন। উক্ত বাসায় অবস্থান কালে ভিকটিমের ঘনঘন বমি ও শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভিমটিমের মা তাকে সিংগাইরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রেগন্যান্সি টেষ্ট করে জানতে পারেন যে, ভিকটিম ২০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

পরবর্তীতে ভিকটিমকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম জানায়, ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখ রাতে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদনের জন্য ওয়াশরুমে গেলে তার খালাতো বোনের জামাই আলমগীর (৩৮) তাকে একা পেয়ে বাসার পাশে অটো রিক্সা গ্যারেজে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে এ সংক্রান্তে সিংগাইর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করে।
উক্ত মামলার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। মামলা রুজুর পরপরই র্যাব-৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান সনাক্ত করে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচলনা করে উক্ত ধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় আসামি আলমগীর (৩৮)’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।
