
নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈশ্বিক স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স বাংলাদেশে তাদের নোট সিরিজের নতুন স্মার্টফোন ইনফিনিক্স নোট এজ উন্মোচন করেছে। কার্ভড ডিসপ্লে ও ৫জি প্রযুক্তির স্মার্টফোনটি আপার-মিড রেঞ্জ সেগমেন্টের। যারা দীর্ঘদিন ধরে একই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে চান, সঙ্গে চান প্রিমিয়াম ও স্টাইলিশ লুক, সফটওয়্যার আপডেট এবং অধিক পারফরম্যান্স তাদের জন্যই নোট এজ বাজারে আনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। দৈনিক স্ক্রিন টাইম, মাল্টিটাস্কিং বাড়ছে, একই সঙ্গে কমে আসছে ফোন বদলের প্রবণতা। এই বাস্তবতায় ইনফিনিক্স জানিয়েছে, নোট এজে স্বল্পমেয়াদি আকর্ষণী ফিচারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতা, স্থিতিশীল পারফরম্যান্স ও সফটওয়্যার সাপোর্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ব্যবহারে নোট এজ ফোনটি তিন থেকে চার বছর নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে।
ইনফিনিক্স নোট এজে রয়েছে ৩ডি কার্ভড ১.৫কে আল্ট্রা এইচডি আই প্রোটেকশন ডিসপ্লে, যার চারপাশে রয়েছে। সমান ও অতি-সংকীর্ণ বেজেল। মাত্র ৭.২ মিলিমিটার পূরুত্বের ও হালকা ওজনের ফোনটিতে পার্লেসেন্ট ফিনিশের নকশা দিয়েছে আধুনিক ও পরিশীলিত লুক। কার্ভড ডিজাইনের কারণে দীর্ঘ সময় পড়া, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ভিডিও কল কিংবা বিনোদনের সময় ফোনটি হাতে ধরে ব্যবহার করা আরও আরামদায়ক হবে।

নোট এজে ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্বের প্রথম মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭১০০ ফাইভজি প্রসেসর। ইনফিনিক্স বলছে, এই চিপসেট দৈনন্দিন কাজ, মাল্টিটাস্কিং ও জনপ্রিয় গেমে স্থিতিশীল ফ্রেম রেট নিশ্চিত করে।

ব্যবহারকারীর উদ্বেগের জায়গা থাকে ব্যাটারি পারফরম্যান্স। নোট এজে রয়েছে ৬৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি, যা একদিনের বেশি সময় অনায়াসে ব্যবহার সম্ভব। ব্যাটারির আয়ু দীর্ঘ করতে যুক্ত করা হয়েছে ‘সেলফ-হিলিং’ প্রযুক্তি, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ার গতি ধীর করতে সহায়তা করে।
ডিভাইসটিতে দেয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার ব্যবহারের নিশ্চয়তা। এতে রয়েছে এক্সওএস ১৬, যেখানে রয়েছে মেমোরি-অ্যাওয়ার শিডিউলিং প্রযুক্তি। পাশাপাশি তিন বছর অপারেটিং সিস্টেম আপডেট এবং পাঁচ বছর নিরাপত্তা প্যাচ আপডেট পাওয়া যাবে।
দুর্বল বা লো-ফ্রিকোয়েন্সি নেটওয়ার্ক সিগন্যালের সংবেদনশীলতা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে দেয়া হয়েছে ইউপিএস ৩.০ প্রযুক্তি। ফলে ইনডোর পরিবেশ বা কোলাহলপূর্ণ এলাকাতেও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল নেটওয়ার্ক সংযোগ পাওয়া যাবে।
ফটোগ্রাফির জন্য ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যা এআই আরএডাব্লিউ ও লাইভ ফটো মোড সমর্থন করে এবং কম আলোতেও পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত ছবি ধারণের সক্ষমতা রয়েছে। এআই-ভিত্তিক ইমেজ প্রসেসিং ও এক-ক্লিক ফটো আউটপুট ফিচারের মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি আরও সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের ডিসপ্লে ও ডুয়াল স্টেরিও স্পিকারের মাধ্যমে উজ্জ্বল দৃশ্য ও পরিষ্কার অডিও অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নোট এজ উন্মোচনের পাশাপাশি বাংলাদেশে নারী ফুটবলের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইনফিনিক্স। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় নারী ফুটবল দলের ক্যাপ্টেইন আফঈদা খন্দকার এবং খেলোয়াড় খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা ইনফিনিক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। ইনফিনিক্স মনে করে, এই অংশীদারত্ব নারী ক্রীড়াবিদদের সক্ষমতা, নেতৃত্ব ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
ইনফিনিক্স নোট এজ সিল্ক গ্রিন ও লুনার টাইটানিয়াম রঙে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্টেলার ব্লু ও শ্যাডো ব্ল্যাক রঙের ভ্যারিয়েন্টও থাকছে। বাংলাদেশে ফোনটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের জন্য ২৯ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ৮ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের জন্য ৩১ হাজার ৯৯৯ টাকা। ডিভাইসটি এখন দেশের অনুমোদিত রিটেইল স্টোর ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।
ইনফিনিক্স : ইনফিনিক্স মোবিলিটি একটি উদীয়মান প্রযুক্তি ব্র্যান্ড। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের আওতায় বিশ্বজুড়ে অনেক ধরনের ডিভাইস ডিজাইন, প্রস্তুত ও বাজারজাত করে থাকে কোম্পানিটি। আজকের তরুণদের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির। মোবাইল ডিভাইস প্রস্তুত করা তাদের মূল লক্ষ্য। এই ফোনগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য চমৎকার স্টাইল, পাওয়ার ও পারফরম্যান্স। ইনফিনিক্সের ট্রেন্ডি ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়।
“ভবিষ্যৎ আমাদের হাতের মুঠোয় (দ্য ফিউচার ইজ নাও)” মূলমন্ত্র নিয়ে ইনফিনিক্স আজকের তরুণদের স্বকীয়তা তুলে ধরার জন্য অনুপ্রাণিত করতে চায়।
আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি অঞ্চলের ৭০টির বেশি দেশে এই কোম্পানির পণ্য বিক্রি করা হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ইনফিনিক্সের মরক্কোতে একটি কনসেপ্ট স্টোর, এর বাইরে ৭৪টি অনুমোদিত স্টোর (৩০% ইয়ার-অন-ইয়ার বৃদ্ধি) এবং সারা পৃথিবী জুড়ে ৪৬,৭০০টি রিটেইল স্টোর আছে। ইনফিনিক্সের একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক ফ্যানবেইজ তৈরি হয়েছে। নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি দ্রুত ফ্যানদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং এক্সওএস ফ্যান এডিশন টেস্ট করার জন্য নিয়মিত অফলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে কোম্পানিটি।
