গুমের অন্ধকার পেরিয়ে মন্ত্রিসভায় ? মাদারীপুরে খোকনকে ঘিরে তুমুল আলোড়ন !

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই দফা গুম, দেড় শতাধিক মামলা, কারাবরণের দীর্ঘ ইতিহাস—সবকিছুকে পেছনে ফেলে এখন সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার আলোচনায় নাম উঠছে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন—ত্যাগী এই নেতাই কি পাচ্ছেন মন্ত্রিত্বের টিকিট ?


বিজ্ঞাপন

ভোটের ব্যবধানে চমক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৬,১২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন খোকন তালুকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৪,৬৪৬ ভোট।

ব্যবধান ১১,৪৮২—যা এই আসনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। ফল ঘোষণার পর থেকেই কালকিনি, ডাসার ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। এখন সেই উচ্ছ্বাস রূপ নিয়েছে নতুন প্রত্যাশায়—“খোকন ভাইকে মন্ত্রী চাই” স্লোগানে সরব তৃণমূল।


বিজ্ঞাপন

গুমের ভয়াল অধ্যায় : দলীয় সূত্র ও ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে টানা তিন মাস ১৭ দিন এবং ২০১৮ সালে আরও তিনদিন গুম ছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাকে প্রথমে ধানমন্ডির একটি শপিং মল থেকে এবং পরে রমনার একটি হোটেল থেকে তুলে নেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে তাকে চোখ বেঁধে ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকায় এবং আরেকবার রমনা থানার সামনে ফেলে যাওয়া হয়।
এই সময়টুকুতে পরিবার ছিল চরম উৎকণ্ঠায়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। সমর্থকদের দাবি—“রাজপথে সক্রিয় থাকায়ই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল।”

মামলা-কারাবরণ পেরিয়ে রাজনীতির শীর্ষে : গত দেড় দশকে তার বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মামলা হয়েছে বলে দাবি দলীয় সূত্রের। একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। কিন্তু সেসব পেরিয়ে এবার সংসদ সদস্য হিসেবে অভিষেক—এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিত্বের আলোচনায় নাম ওঠা—রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি “এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তন”। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক।

খোকনের প্রতিক্রিয়া : আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতিতে এসেছি। শত নির্যাতনের পরও টিকে থাকাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। মাদারীপুর-৩ আসনের মানুষের প্রত্যাশা আছে—মন্ত্রী হওয়ার। দল যদি সেই দায়িত্ব দেয়, কৃতজ্ঞ থাকবো। দক্ষিণবঙ্গ তথা মাদারীপুরের জন্য কাজ করে যাবো। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”

আসনের পরিসংখ্যান : নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৩,৮৭,৮০৬ জন। পুরুষ: ২,০২,৬৪৬, নারী: ১,৮৫,১৫৮, হিজড়া ভোটার: ২, মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৪টি—সদরে ৩৭, কালকিনিতে ৭২ এবং ডাসারে ২৫টি।

ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি : ১৯৯৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন তিনি। বাড়ি ডাসার উপজেলার পশ্চিম খান্দুলী গ্রামে। তার বাবা হাজী এছাহাক উদ্দিন রতন তালুকদার দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে তার।

এখন প্রশ্ন একটাই : দুইবার গুম হওয়া, একাধিক মামলার আসামি, রাজপথের লড়াকু নেতা—এই পরিচয়ের পর কি এবার মন্ত্রিসভার কক্ষে দেখা যাবে খোকনকে ?

বিএনপির ভেতরে-বাইরে এখন জোর আলোচনা—“ত্যাগের পুরস্কার কি মিলবে ?” রাজনৈতিক মহল বলছে, যদি তিনি মন্ত্রিত্ব পান, তবে তা হবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির এক প্রতীকী বার্তা—অন্ধকার পেরিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার গল্প।

👁️ 101 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *