গণপূর্তের ‘ডন’ হবিগঞ্জের এক্সেন কামরুপ(রুল) হাছান  : পাপের সাম্রাজ্যের কামরুপ(রুল)- ‘মূতা বিয়ে’র আড়ালে নাবালিকা কামড়, নারী কেলেংকারী, প*রকীয়া, টেন্ডারবাজি, ফ্যাসিবাদের দোসর সিন্ডিকেট ও ওবায়দুল কাদেরের খলিফার রুদ্ধশ্বাস দুর্নীতি৷!

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  তিনি সরকারি কর্মকর্তা, নাকি কোনো অন্ধকার জগতের মাফিয়া? দিনের আলোয় ফাইল সই করেন, আর রাতের আঁধারে সাজান ‘মূতা বিয়ে’র নামে নারী ভোগের আসর। হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান এবং নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলো শুনলে গা শিউরে ওঠে।


বিজ্ঞাপন

এটি কেবল দুর্নীতির গল্প নয়, এটি লম্পট্য, বিশ্বাসঘাতকতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চরম উপাখ্যান। মোঃ কামরুল হাছান ওরফে কামরুপ (বয়স ৫০), পিতা মৃত মোঃ রেয়াজ উদ্দীন, বাড়ি কড়িকান্দি, গৌরিপুর, তিতাস, কুমিল্লা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কামাতুর ও নারীলোভী একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। ২৭ তম বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের এই সদস্য বর্তমানে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত আছেন। ২৭ তম বিসিএস এর মাধ্যমে গত ২৫.১১.২০০৯ খ্রি: তারিখে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তর এ সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী ডাক্তার জান্নাতুল মাওয়া টুম্পা (৪৯ বছর) যিনি পিরোজপুর জেলার একজন নামকরা গাইনী ডাক্তার, যিনি বর্তমানে পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত, পাশাপাশি কেয়ার ফাস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ নিয়মিত রোগী দেখেন। তাদের দুই সন্তান।


বিজ্ঞাপন

কন্যা আদিবাতুন নাবিহা (১৩ বছর) এবং জন্ম পুত্র আব্দুল্লাহ আল নাবহান (১৪ বছর)। কামরুল এর ছোটো ভাই ডাঃ মুক্তার হোসেন নাসের বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল এ পদায়ন পূর্বে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ছিলেন, ডাঃ নাসের এর স্ত্রী ডাঃ টুম্পা শিকদার মেডিকেল এ চাকুরিরত। ছোটো বোন রিনা তার স্বামী’র সাথে চট্রগ্রাম থাকেন।


বিজ্ঞাপন

কামরুপ (রুল) হাছান গত ২৫ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে পটুয়াখালী গণপূর্ত উপ বিভাগ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়ে প্রথম পদায়ন পান নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে গত ০৭-০২-২০১৭ তারিখে। তিনি নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে গত ০৭-০২-২০১৭ থেকে ৩০-০৩-২০২২ পর্যন্ত পদায়িত ছিলেন।

সাধারণত একেকজন নির্বাহী প্রকৌশলী একটি জেলায় ২/৩ বছরের জন্য পদায়িত থাকেন কিন্তু এই ভদ্রলোক নোয়াখালী জেলায় দীর্ঘ ৫ বছরের অধিক পদায়িত ছিলেন শুধুমাত্র নোয়াখালীর ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় হওয়ার কারণে। এই ৫ বছরে তিনি অনিয়ম, দূর্ণীতি ও নারী কেলেংকারীতে এতোটাই নিমজ্জিত ছিলেন যে গণপূর্ত অধিদপ্তর এর সকল মান সম্মান শুধুমাত্র এক নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের কারণে সারাদেশে কলংকিত ছিলো।

এতো অনিয়ম দূর্ণীতি ও নারী কেলেংকারীর পরেও তিনি শুধুমাত্র ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় হওয়ার কারণে টিকে ছিলেন। তার নারী কেলেংকারীর ঘটনা যখন স্বৈরাচার সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে পৌছায় তখন তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলীকে ডেকে বকাঝকা করেন। যার ফলে তাকে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন করা হয়।

মূতা বিয়ে ও নারী কেলেঙ্কারীর ভয়াবহ চিত্রঃ ‘হালাল’ যৌনতার নামে নাবালিকা ধর্ষণ  !  কামরুল হাছানের বিকৃত লালসার সবচেয়ে ভয়ানক অস্ত্র হলো ‘মূতা বিয়ে’। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যা শত বছর আগে নিষিদ্ধ হয়েছে, সেই প্রথাকে ঢাল বানিয়ে তিনি মেতেছেন নারী শিকারে। অভিযোগ উঠেছে, এই কর্মকর্তা বিয়ের প্রলোভনে নাবালিকাদের ধর্ষণ করেছেন। প্রকৌশলী কামরুপ কামরুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক ও সরকার বিরোধী কাজে জড়িত থাকারও অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার।

তারা ক্ষোভের সহিত আরো জানান, প্রকৌশলী কামরুল দুই দফা নোয়াখালীতে থাকতে স্থানীয় নি¤œবিত্ত ও অভাবী পরিবারের সুন্দরী মেয়েদেরকে মুতা বিয়ের নামে প্যাকেজ বিয়ে করতেন। দুই/এক সপ্তাহ যাওয়ার পর ওই সকল মেয়েদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিদায় করতেন।

নোয়াখালীতে থাকতে এভাবে দুই দফায় প্রায় ৪০টির বেশি মুতা বিয়ে করেছিলেন। ওই ঠিকাদাররা আরো যোগ করেন ‘ম’ অদ্যক্ষরের এক স্থানীয় ঠিকাদার প্রকৌশলী কামরুপ কামরুলকে মুতা বিয়ের মেয়েসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিতেন।

বিনিময়ে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ওই ঠিকাদার নোয়াখালীতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়। যে ঠিকাদারই তাকে নিত্য নতুন নারী ‘সাপ্লাই’ দিতে পারে, তার কপালেই জোটে কোটি কোটি টাকার কাজ। টেন্ডার এখানে গৌণ, ‘নারী সরবরাহ’ ও তার লালসা মেটানোই যেখানে মুখ্য যোগ্যতা!

প্রসংগত উল্লেখ থাকে যে, মুতা বিবাহ হল এক ধরনের সাময়িক বা অস্থায়ী বিবাহ। যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহরের বিনিময়ে কোনো স্ত্রী লোকের সাথে অনুষ্ঠিত হতো। এতে কোনো সা বা তালাকের প্রয়োজন হতোনা। নির্দিষ্ট সময় সীমা অতিক্রম হওয়ার সাথে সাথে আপনা হতে এ বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যায়। এর জন্য তালাকের দরকার হয় না।

এ বিবাহ প্রথাটি আরবে ইসলামপূর্ব যুগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। ইসলামের প্রাথমিক যুগেও এর অনুমতি ছিল। পরে রাসূল (সাঃ) পাক কিয়ামত পর্যন্ত এর নিষিদ্ধতা ঘোষণা করেন। তবে ইরানের কিছু কিছু জায়গায় এখন এই নিয়মে চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে হতে দেখা যায়।

এ সম্পর্কে সহীহ মুসলিম শরীফে বলা হয়েছে, “রাসূল পাক বলেন, কারো নিকট মোত’আহ্ বিবাহের সূত্রে কোনো স্ত্রী থাকলে, সে যেন তাঁকে পরিত্যাগ করে।” আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ রেওয়ায়েত করেছেন, “আইয়্যাশ ইবনে সালামাহ তাঁর পিতার সূত্রে বলেছেন, রাসূলে পাক আওতাস যুদ্ধের বছর তিনদিনের মুতাহ বিবাহের অনুমতি দান করেছিলেন।

তারপর তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।” মূতা বিবাহ সমাজ ও প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন আচরণকে সাধারণত নৈতিক স্খলন বা ‘নারী কেলেঙ্কারী’ হিসেবেই গণ্য করা হয়। তবে একটি ছোট সংশোধন জরুরি: বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ‘মূতা বিয়ে’ বা সাময়িক বিয়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই।

সমাজে এটিকে একপ্রকার যৌন ব্যবসা বলা হয়। অনেকে মজা করে বলেন হালাল যৌন ব্যবসা। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আইনত “একাধিক বিবাহ” (পূর্বানুমতি ছাড়া) অথবা “যৌন হয়রানি ও প্রতারণা” হিসেবে ধরা হয়। কথিত আছে কামরুল নাকি স্বপ্নে দেখেছেন যে তিনি সারাজীবন নোয়াখালীতে পদায়িত থাকবেন। এজন্যই তিনি এ জেলায় অনেকগুলো বিবাহ সম্পন্ন করেছেন যদিও সব মূতা বিবাহ।

২০২৩ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসব অপকর্মের জন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় যা এখনো পত্রপত্রিকায় পাওয়া যায়। এছাড়া ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফকিরপুর,রশিদ কলোনী, মাইজদী কোর্ট,সদর, নোয়াখালী তে ভাংগারী মামুন এর বাসার দোতলায় এক কিশোরী মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কের পর মেয়েটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরন শুরু হলে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে।

একপর্যায়ে এলাকাবাসীর হাতে পায়ে ধরে সে যাত্রা বেচে যায় কামরুপ (রুল)। এদিকে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে লোক জানাজানির ভয়ে স্থানীয় এক ঠিকাদারের ক্লিনিকে নিয়ে ট্রিটমেন্ট করানো হয়। এরপরেও কি কামরুপের কাম-ক্ষুধা কমেছে ?

এ বিষয়ে কামরুপের আগের চাকুরী স্টেশন পটুয়াখালীর এক স্টাফ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি তো পটুয়াখালীতে একবার এক বাসায় ধরাও পরেছিলেন। এরপরেও যখন তার শিক্ষা হয়নি তখন আর শিক্ষা হবেনা।”

পরকীয়ায় মত্ত ‘কামাতুর’ কামরুপ: অধস্তনের স্ত্রী থেকে নিজের আত্মীয়—কারও নিস্তার নেই :  প্রকৌশলী কামরুল হাছান ওরফে কামরুপের লালসা কেবল ‘মূতা বিয়ে’তেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তার পরকীয়া আসক্তি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে সাজানো সংসার। নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে অধস্তন কর্মচারীর স্ত্রীকে ভোগ করা থেকে শুরু করে নিজ আত্মীয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক—সবই ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ।

অধস্তনের স্ত্রীকে ভোগ ও সাজানো সংসার ধ্বংস  :  কামরুল যখন পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার অধস্তন ‘হ’- আদ্যক্ষরযুক্ত এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী স্ত্রী ঝুমুরের ওপর। সেখান থেকে ঝুমুর এর সাথে পরকিয়া শুরু। পটুয়াখালী মেডিকেল এর সাবস্টেশন ভবনে সে থাকতো আর মাঝে মধ্যে ঝুমুর কে নিয়ে আসতো।

পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে নোয়াখালীতে বদলি হয়ে আসার পর কামরুল তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই ‘হ’ আদ্যাক্ষর যুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলীকেও পটুয়াখালী থেকে নোয়াখালী বদলি করিয়ে আনেন। প্রথমে তাদেরকে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের অফিসের ভেতর এসডিই কোয়ার্টার এ থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

কিন্তু এখানে কামরুলের আসা যাওয়া লোকজন দেখে ফেলার ভয় ছিলো তাই চতুর কামরুল তাদেরকে শিল্পকলা একাডেমীর পেছনে খালেক ডিলার এর বাড়ির নীচতলায় বাসা ভাড়া করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, কামরুল পরিকল্পিতভাবে ওই উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে ঢাকায় পাঠিয়ে দিতেন। আর এই সুযোগে তিনি ঝুমুরের বাসায় গিয়ে তার কাম-লালসা চরিতার্থ করতেন।

কিন্তু পাপ কোনোদিন চাপা থাকে না। কামরুল দ্রুত সেখানে যাওয়া আসা নির্বিঘ্ন করতে নিজের বাসার পেছনের দিকের দেয়াল ভেংগে একটি টিনের দরজা স্থাপন করেন। এই দরজা দিয়েই সে ঝুমুরের বাসায় যাওয়া আসা করতো। যাওয়া আসা বেশি করায় আশেপাশের বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে

অপকর্মে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার কামরুল  :  একদিন তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং কামরুলকে গণধোলাই দেয়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে সেখানে গণপূর্তের স্থানীয় ঠিকাদার সোহেল সহ আরো কয়েকজন হাজির হয়ে কামরুলকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।স্ত্রীর এই পরকীয়ার ঘটনাটি স্বামী প্রকৌশলী ‘হ’ জেনে ফেলেন। ফলশ্রুতিতে প্রকৌশলী ‘হ’ বউকে তালাক দিয়ে নোয়াখালী থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন। এভাবে কামরুলের লালসার বলি হয়ে একটি সাজানো গোছানো সংসার তছনছ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে কামরুল সেই মেয়েটিকে ভাংগারী মামুনের নামে তার ক্রয়কৃত রশিদপুরের বাসার দোতলায় নিয়ে আসে এবং নিয়মিত তার পরকিয়া চালিয়ে যায়। এই বাসায় কামরুপ (রুল) আরো কয়েকটি সাময়িক স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতো।

এমনকি ভাংগারী মামুন এর কথিত মেয়ে’র দিকে কামরুলের কামাতুর দৃষ্টি পরলে কামরুল মামুনকে সব কাজ দেয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে নিজ ব্যাবসা বাচাতে মামুন কামরুপ এর হাতে তার পালিত মেয়েকে তুলে দিতে বাধ্য হয়। ২০২২ সালে বরিশাল পদায়ন হওয়ার পর অগ্রীম কাজের প্রাক্কলন এর জন্য মামুনের বাসায় রক্ষিত ঝুমুর ও মামুনের কথিত মেয়েকে স্থানীয় ঠিকাদারেরা ঘেরাও করলে তৎকালীন মেয়র পিন্টু তাদের রক্ষা করেন।

সম্বন্ধীর স্ত্রী নার্স ফিরোজার সাথে অনৈতিক মেলামেশা: কামরুপের লালসা থেকে রেহাই পায়নি তার নিজের সম্বন্ধীর (স্ত্রীর বড় ভাই) পরিবারও। তার সম্বন্ধী একজন ডাক্তার এবং তার স্ত্রী ফিরোজা পেশায় একজন নার্স।

অভিযোগ রয়েছে, সম্বন্ধী যখন হাসপাতালে ডিউটিতে থাকতেন, কামরুপ তখন ফিরোজার সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হতেন। তথ্য বলছে, এই নার্স ফিরোজা মাঝেমধ্যেই নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি বাংলোতে আসতেন কামরুপের তৃষ্ণা মেটাতে। সেখানে তারা টানা ২-৩ দিন একান্তে সময় কাটাতেন।

কামশক্তিতে নিজেকে ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ ভাবা এই কর্মকর্তার এমন পারিবারিক ও চারিত্রিক স্খলনের খবর এখন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অলিতে-গলিতে ওপেন সিক্রেট। নিজের পদ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন জঘন্য নৈতিক অবক্ষয় প্রশাসনিক অঙ্গনে বিরল কলঙ্ক লেপন করেছে। ২০২২-২৩ সালে বরিশাল পদায়ন থাকা কালীন নারীঘটিত কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সেখানে মানববন্ধন হয়। সে ঘটনাটি সে সাদিক আবদুল্লাহকে দিয়ে ধামাচাপা দেয়।

এক্ষেত্রে দুইটি প্রশ্ন থেকেই যায়। (১) গোটা নোয়াখালী শহরে কামরুলের কামারুপীয় ঘটনা যেহেতু ওপেন সিক্রেট তাহলে এতো লুকাছুপি করে আর মূতা বিয়ে কেনো? (২) উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা আমার নিকট থেকে বিধানটি সংগ্রহ করে নাও। আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য একটি ব্যবস্থা দিয়েছেন তথা বিধান অবতীর্ণ করেছেন। অবিবাহিত যুবক-যুবতীর শাস্তি হচ্ছে, একশটি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর।

আর বিবাহিত পুরুষ ও মহিলার শাস্তি হচ্ছে, একশটি বেত্রাঘাত ও রজম তথা পাথর মেরে হত্যা” নবী (সাঃ) বলেন, “তিন কারণে মুসলমানের রক্ত (মৃত্যুদণ্ড) বৈধ হয়: কেউ বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচার করলে; কেউ অন্যায়ভাবে হত্যা করলে এবং কেউ ইসলাম ত্যাগ করলে”। এক্ষেত্রে কামরুল বিবাহিত ঝুমুরের সাথে যা করেছে তাতে কি তাকে পাথর মেরে হত্যা করা যায়েজ?

শরীয়াহ ও আইনের কাঠগড়ায় কামরুপ  :  গোটা নোয়াখালী শহরে কামরুলের এই ‘কামরুপীয়’ ঘটনা এখন ওপেন সিক্রেট। উবাদা ইবন সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী, বিবাহিত পুরুষ ব্যভিচার করলে তার শাস্তি পাথর মেরে মৃত্যু (রজম)। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, বিবাহিত কামরুল যেভাবে ঝুমুরের সংসার ভেঙে ব্যভিচার করেছেন, তা জঘন্যতম অপরাধ।

বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ীও এটি ‘যৌন হয়রানি’ ও ‘প্রতারণা’র শামিল। নিজের পদ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন পৈশাচিক নৈতিক অবক্ষয় কেবল প্রশাসনিক নয়, সামাজিক অবক্ষয়ের এক চূড়ান্ত উদাহরণ।

ভুক্তভোগী উপ সহকারী প্রকৌশলী বলেন, “যেভাবে তার বিবাহিত স্ত্রীর সাথে ব্যাভিচার করেছেন তাতে কামরুল হাছানকে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক “রজম বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড” এর শান্তি আমি প্রত্যাশা করছি।”

টেন্ডার দূর্ণীতির বিশ্বরেকর্ডঃ (অলিম্পিক কমিটির সাথে কথা চলছে টেন্ডার দূর্ণীতির  বিশ্বচ্যাম্পিয়ানকে পদক প্রদান করার জন্য)
প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছানের রয়েছে একটি ঠিকাদার কমিশন সিন্ডিকেট। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে তিনি দীর্ঘ ৫/৬ বছর এ দপ্তরে নির্বাহী পদে আসীন ছিলেন। সে সময়েই গড়ে তোলেন এ কমিশন সিন্ডিকেট। সঙ্গতকারণে তার কমিশন সিন্ডিকেটের বাইরে এখানে কেহ ঠিকাদারি করার সুযোগ পায়না।

এছাড়া যে ঠিকাদারের সাথে তার মূতা বিয়ের ঘটকালি করার চুক্তি হয়, সে ঠিকাদারই এসব হরিলুটের বরাদ্ধ ভোগ করেন। এক্ষেত্রে তার মূতা বিয়ের জন্য নিত্যনতুন নারী সাপ্লায়ার এবং ভাংগারী ব্যাবসায়ী মোহাম্মদ মামুন স্বত্তাধীকারী মেসার্স আবদুল ছাত্তার আহাদ কে ২৯-১১-২০২০ এ ৫১৮৭৮২ থেকে ৮৪ পর্যন্ত ৩টি, ৩০-১১-২০২০ ৬টি যথাক্রমে ৫১৯০৯৫, ৫১৯০৯৬, ৫১৯০৫৬, ৫১৯০৫৭, ৫১৯০৫৮।

০১-১২-২০২০ তারিখে ৫১৯০৬৭, ৫১৯০৬৮, ৫১৯০৭০, ৫১৯০৭১, ৫১৯০৭৩, ৫১৯০৭৪ ও ৫১৯০৭৫ সাতটি, ২৩-১২-২০২০ তারিখে একই দিনে এলটিএম পদ্ধতিতে ছয়টি টেন্ডার করে দূর্ণীতির মাধ্যমে ছয়টি কাজ দিয়েছে। কারণ প্রতিটি টেন্ডারেই একটি মাত্র টেন্ডার ড্রপিং হয়েছে। বাংলাদেশে একই দিন ৬টি টেন্ডার আহবান করে ৬টিই একজন ই বিজয়ী হওয়া এবং ৬টিতেই একটি করে টেন্ডার ড্রপিং হওয়ার মতো রেকর্ড নেই।

টেন্ডার আইডিগুলো হচ্ছে ৫২৯৭১৫, ৫২৯৭২১, ৫২৯৫৫৫, ৫২৯৭২০, ৫২৯৬৮৫, ৫২৯৭১৯ ছয়টিই ২৩-১২-২০২০ এ টেন্ডার আহবান, ০৯-০১-২০২১ নোয়া প্রদান, ১১-০১-২০২১ চুক্তিপত্র সই। ১১-০১-২০২১ থেকে ২১-০১-২০২১ এই এক সপ্তাহে এক্সেন কামরুল তার প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে মোট ২২টি নোয়া ইস্যু করেছে যার প্রতিটি সিংগেল টেন্ডার ড্রপিং।

এই মামুনকে ২০২৫ সালে তার দেয়া কাজের আইডি গুলো ১০৯৬৬৬৫, ১০৮৬৭৪০, ১১০৬৫৫৯। নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ কাজের টেন্ডারে দরপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ায় মাত্র ৩ দিন আগে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা কমিয়ে আওয়ামী ঠিকাদার জামাল ও নূরাণীকে কাজটি দিতে টেন্ডার কারসাজির ঘটনা ঘটিয়েছেন।

হরিলুট ও টেন্ডার ম্যানুপুলেশন  :   গত ২৬/০৯/২০২৪ ইং তারিখে তিনি পুনরায় নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্ব একপ্রকার জোর করে নেন। ২য় বার পদায়নের পর তিনি অনিয়ম দূর্ণীতির মাত্রা বাড়িয়ে দেন। কমিশনের বিনিময়ে কাজ ছাড়া বিল, টেন্ডার ছাড়া বিল, এক কাজে দুইবার বিল, টেন্ডার ম্যানুপুলেশন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ঠিকাদারদের জন্য সর্বস্ব দেওয়া সহ সরকারি গাড়ির তেলের টাকা পর্যন্ত তিনি লুটে খেয়ে পেট্রোল পাম্পে বাকী করেছেন ১৬ লাখ, কম্পিউটার এর দোকানে বাকী ১১/১২ লাখ সহ সবখানে শুধু বাকী আর বাকী। বাংলাদেশের আর কোনো জেলায় এমন নজির নেই। কারো ফোন তিনি ধরেন না। সরকারি বরাদ্দের পুরোটা লুটে খেয়ে দোকান বাকি করে চলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি কখনো নিজের পকেট থেকে একটি টাকাও বের করেন না। ঠিকাদারদের দিয়ে খান, চলেন এবং মূতা বিয়ে করেন। নিয়ম নীতি বা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে টেন্ডারের রেট ম্যানুপুলেট করে তার নিজের লোকদের কাজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা দূর্ণীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।

জুন, ২০২৫ এ Azad Enterprise এর নামে একই কাজের বিপরীতে দুইবার বিল প্রদান করে ১৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। হাতিয়া মডেল মসজিদে বাস্তবে কাজ ছাড়াই দিয়েছেন বিল। বিলে কারো সই নেন নাই। এর ঠিকাদার ওসমান গনি কে তার লোন একাউন্ট এভোয়েড করে ভিন্ন একাউন্টে চেক নগদায়ন করার সুযোগ দিয়ে বিপুল অর্থ কমিশন নিয়েছেন আর পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট ব্রাঞ্চ কে আরেকটি অনাদায়ী ঋনের কবলে ফেলেছেন।

মাত্র এক মাসে মোট ৩ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার বিল দিয়েছেন। এমনকি কাজের মাত্র ৩৮% হওয়া সত্ত্বেও কমিশনের বিনিময়ে জামানতের সম্পূর্ণ টাকাও তিনি দিয়ে দিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে মাত্র ৭.৫ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন হওয়া সত্ত্বেও প্রায় দশ কোটি টাকার বিল প্রদান করেছেন।

ওবায়দুল কাদেরের ‘বরপুত্র কামরুপ  :  নিজের ব্যাচমেটকে ফাঁসাতে জাল ডিও লেটারের মাস্টারপ্ল্যান প্রকৌশলী কামরুল হাছান ওরফে কামরুপ কেবল একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নন, তিনি রাজনৈতিক চালবাজিতেও এক ঝানু খেলোয়াড়। ওবায়দুল কাদেরের ‘ছায়ায়’ থেকে তিনি নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগকে নিজের ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে পরিণত করেছেন। তার ক্ষমতার দাপটে খোদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও তটস্থ থাকতেন।

ফ্যাসিবাদের অর্থের যোগানদাতা ও বরিশাল কানেকশন  : 
২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত নোয়াখালীতে থাকাকালীন কামরুল ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রধান অর্থের যোগানদাতা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অবৈধ অর্থের যোগান দিয়ে তিনি ওবায়দুল কাদেরের অতি ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে দুর্নীতির কারণে তাকে বরিশালে বদলি করা হলে সেখানে তিনি নতুন সিন্ডিকেট গড়েন। শেখ হাসিনার আত্মীয় সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে হাত মিলিয়ে তিনি এলটিএম (LTM) পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে ১০% কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বরিশালের মেডিকেল সাবডিভিশনের এই জালিয়াতি নিয়ে সে সময় ‘দেশ টিভি’তে চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রচারিত হলেও ক্ষম

👁️ 53 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *