ঈদ  উপলক্ষে রাজধানীতে ‘মদের সিন্ডিকেট’ উন্মোচন : হাজারীবাগে ডিএনসি’র অভিযান: ৬৫ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার ২

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীতে অবৈধ বিদেশি মদের বড় সিন্ডিকেট সক্রিয়—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। রাজধানীর হাজারীবাগের বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে ৬৫ বোতল ভারতীয় মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

ডিএনসি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র গোপনে সীমান্ত এলাকা থেকে মদ এনে ঢাকায় মজুদ ও সরবরাহ করছিল। ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিতে তারা বড় চালান এনে স্টক করেছিল।

পরিকল্পিত অভিযানে ধরা পড়ল ‘মদের ভান্ডার’  : গত ১৩ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালায়। উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একটি ভাড়া বাসা থেকে মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) ও মো. আবদুর রহমান (৩৭)কে আটক করা হয়।


বিজ্ঞাপন

তল্লাশি চালিয়ে চারটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৬৫ বোতল বিদেশি মদ। এর মধ্যে ছিল রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড ও ম্যাকডাওয়েলস। প্রতিটি বোতল ৭৫০ মিলিলিটার হিসেবে মোট প্রায় ৪৮ লিটারের বেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

মূল হোতা’ প্রিন্স, সরবরাহকারী রহমান :  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃতরা। জানা গেছে, মো. গাউসুল আজম প্রিন্সই এই অবৈধ ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক। তিনি মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা মদ সরবরাহ করতেন। অন্যদিকে, মো. আবদুর রহমান দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা—বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে প্রিন্সের কাছে সরবরাহ করতেন।


বিজ্ঞাপন

ভেজাল মদের ভয়াবহ ঝুঁকি  :  ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চোরাই পথে আসা এসব বিদেশি মদের অনেকগুলোই ভেজাল বা টিউন করা হয়ে থাকে। এতে মিথানলসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা মানুষের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করা থেকে শুরু করে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

বিশেষ করে ঈদ, পূজা বা নববর্ষের মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের মদ বেশি মজুদ ও বিক্রি করা হয়। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতেও রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ভেজাল মদের কারখানা শনাক্ত করেছিল ডিএনসি।

মামলা ও তদন্ত চলছে :  এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় হাজারীবাগ থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মদের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

বার্তা স্পষ্ট : উৎসবের আনন্দে মাদক নয়—সতর্কতা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, “অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে অব্যাহতভাবে।”

👁️ 29 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *