শার্শায় পিআইও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ : মানববন্ধন, ঘেরাও, দুদকে স্মারকলিপি—উত্তাল জনরোষে কাঁপছে উপজেলা প্রশাসন !  

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি :  যশোরের শার্শা উপজেলায় যেন দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ একসাথে বিস্ফোরিত হলো। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।


বিজ্ঞাপন

রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় শার্শা উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন মুহূর্তেই রূপ নেয় জনরোষে ফেটে পড়া প্রতিবাদ সমাবেশে।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে, যা এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগের পাহাড়: কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে লুটপাট  !
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়—পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়; বরং বছরের পর বছর ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তিনি এসব অনিয়ম চালিয়ে আসছেন।


বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগসাজশে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে সরকারি ক্রয়-বিধিমালা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে মোটা অংকের অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মাঠে নেমে দেখা গেলো ‘ভয়াবহ চিত্র’  :  মানববন্ধনে বক্তারা সরাসরি প্রকল্পের অনিয়ম তুলে ধরে বলেন— ডিহি ইউনিয়নের ট্যাংরালী সড়ক নির্মাণে প্রকল্প অনুযায়ী বালির পরিবর্তে মাটির ওপর ইট বসিয়ে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে।
এতে করে সরকারি অর্থ অপচয়ই শুধু হয়নি, বরং জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

ভুয়া ভাউচার, জোর করে স্বাক্ষর  !  অভিযোগে আরও উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য— বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের ডেকে এনে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এরপর সেই ভাউচার ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

অসম্পূর্ণ কাজ, পুরো বিল উত্তোলন  ! নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুরিয়া ঘোপ এলাকায় ইমরানের দোকান থেকে মনজুরের বাগড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে আংশিক কাজ করেই পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষায়, “কাজ অর্ধেক, টাকা পুরো—এ যেন প্রকাশ্য লুটপাট!”

একই ঠিকাদার, একাধিক প্রকল্প—টেন্ডার ব্যবস্থায় প্রশ্ন : সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে একই ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্প দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সব কাজ দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন একই পদে থেকে ‘প্রভাবের সাম্রাজ্য’ ! স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থেকে পিআইও রঞ্জু একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি করেছেন। এই প্রভাব ব্যবহার করে তিনি উপরমহলকে ম্যানেজ করে সব অনিয়ম ধামাচাপা দিয়ে আসছেন।

প্রমাণ আছে—ছবি, ভিডিও, সাক্ষ্য ! স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগগুলো শুধু কথার ওপর ভিত্তি করে নয়। প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—প্রকল্পের কাজের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ এবং  স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের রেকর্ডকৃত সাক্ষ্য, কাজের পূর্ব ও পরবর্তী অবস্থার তুলনামূলক তথ্য।

রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের উপস্থিতি  :  মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন— অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, আলমগীর সিদ্দিক, আবুল কাশেম, আমিরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেনসহ ১১টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের বক্তব্যে একটাই সুর—“দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা চাই।”

দুদকে তদন্তের দাবি   :  স্মারকলিপিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে—নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার/বরখাস্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ শাস্তি এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ।

অভিযুক্তের নীরবতা   : অভিযুক্ত পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার এই নীরবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

প্রশ্ন এখন একটাই—ব্যবস্থা নেবে কে  ? স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত অভিযোগ, এত প্রমাণ—তারপরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সুশাসন কোথায়? উন্নয়নের নামে যদি এমন লুটপাট চলতেই থাকে, তাহলে জনগণের আস্থা ফিরবে কীভাবে?
শার্শায় এখন একটাই দাবি—“দুর্নীতির বিচার চাই, জবাবদিহিতা চাই।”

👁️ 107 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *