মন্দিরের গোপন কক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ  : রতন মণ্ডলকে ঘিরে উত্তাল ঢাকা হরিমন্দির

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

অভিযুক্ত রতন মন্ডল।


বিজ্ঞাপন

বিশেষ প্রতিবেদক  :  ঢাকার রমনা পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রীহরিচাঁদ মন্দিরকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই ও সহিংসতার অভিযোগ। মন্দিরের একাংশের ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ—ব্যবসায়ী রতন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে মন্দিরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছেন।

যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে রতন মণ্ডলের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের দাবি, তিন বছর আগে মন্দিরের তৎকালীন সভাপতি অতুল চন্দ্র মণ্ডলকে সরানোর প্রক্রিয়ার পেছনে নেপথ্য ভূমিকা ছিল রতন মণ্ডলের।


বিজ্ঞাপন

পরে নতুন কমিটিতে কালীপদ মৃধা সভাপতি এবং নৃপেন্দ্রনাথ হীরা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে রতন মণ্ডল সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই মন্দির পরিচালনায় তার প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ ওঠে।

ভক্তদের একাংশের ভাষ্য, মন্দিরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ দেখানো হয়েছে।

এমনকি গুরুচাঁদ ছাত্রাবাসের পেছনে একটি বিশেষ কক্ষ নির্মাণ করে সেটিকে অলিখিতভাবে রতন মণ্ডলের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ওই কক্ষটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

মন্দির সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনরায় বহাল রাখার জন্যও ওই কক্ষেই পরিকল্পনা করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, মন্দিরে গঠনতন্ত্র প্রণয়নের উদ্যোগ একাধিকবার উঠলেও তা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হয়নি, যাতে নেতৃত্বের পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত থাকে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ওই দিন মন্দির প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং কয়েকজন আহত হন।

হামলার শিকারদের মধ্যে বিশ্বজিৎ মল্লিকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনার পেছনে রতন মণ্ডল ও তার অনুসারীদের পরিকল্পনা ও অর্থায়ন ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

হামলার শিকার বিশ্বজিত মল্লিক হাসপাতালের বেডে।

 

মন্দিরের সাধারণ ভক্তদের অনেকে বলছেন, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গা হওয়া উচিত যে প্রতিষ্ঠানের, সেখানে এখন ভয়, বিভক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি জায়গা করে নিয়েছে। তাদের ভাষায়, “মন্দির হওয়া উচিত শান্তি ও ভক্তির স্থান; কিন্তু এখন সেখানে আতঙ্ক আর প্রভাবের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।”

অন্যদিকে, রতন মণ্ডলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে তিনি বিভিন্ন এলাকায় “হরিলীলামৃত স্কুল” প্রতিষ্ঠার নামে প্রচারণা চালালেও বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

সমালোচকদের দাবি, সামাজিক প্রভাব বাড়ানো ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষার অংশ হিসেবেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত হয়নি।

ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই দ্বন্দ্বে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন ভক্ত ও স্থানীয়রা।

👁️ 74 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *