শরণখোলায় মাদক কারবারিদের তান্ডব ও রাজত্বঃসিসিটিভি স্থাপনে বাধা,সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্তান কে প্রাণনাশের হুমকি!নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন!থানায় জিডি

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নইন আবু নাঈম তালুকদার  :  ​বাগেরহাটের শরণখোলায় এক চিহ্নিত মাদক কারবারি ও শীর্ষ সন্রাসীর ভয়াবহ তাণ্ডব ও রাজত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে।বসতবাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে বাধা প্রদান এবং সংবাদকর্মী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সাড় ১২ টায় শরণখোলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী আফরোজা সুলতানা। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।


বিজ্ঞাপন

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আফরোজা সুলতানা জানান, তাঁর স্বামী মো. রাজিব হোসেন একজন স্থানীয় সংবাদকর্মী। গত ৬ এপ্রিল (সোমবার) পারিবারিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা নিজেদের বসতবাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলাকালে রায়েন্দা বাজারের চিহ্নিত মাদক কারবারি ও শীর্ষ সন্রাসী ইলিয়াস তালুকদার (পিতা: মৃত হাসেম তালুকদার) দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত বাড়িতে প্রবেশ করে এবং কাজে বাধা প্রদান করে।

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ইলিয়াস তালুকদার প্রকাশ্যে সিসিটিভি স্থাপনে বাধা দিয়ে দম্ভোক্তির সাথে দাবি করে যে, ক্যামেরা বসালে তার ‘মাদক ব্যবসায়’ মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটবে। এ সময় ক্যামেরা না সরালে এই দম্পতিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে অবিলম্বে এলাকা এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয় ও সন্রাসী,মাদক সম্রাট ইলিয়াস হুমকি দিয়ে আরো বলে আমি তোর বাড়িতে ও সকল প্রকার মাদক সহ নারীদের নিয়েও ব্যাবসা করবো,তুই পারলে ঠেকাশ এবং তোর প্রশাসন পারলে আমার যেনো কিছু করে।


বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্ত ইলিয়াস তালুকদার এলাকার একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি এবং শীর্ষ সন্রাসী। গত ৮ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাকে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা সহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে এসে সে পুনরায় এলাকায় আবারও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।দাম্ভিকতার সাথে মাদক সম্রাট ও শীর্ষ সন্রাসী ইলিয়াস বলে প্রশাসন আমাকে কিছুই করতে পারবে না আর তোদের তো বাড়ি ঘর ছাড়তেই হবে।


বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। প্রতিকার চেয়ে গত ৮ এপ্রিল শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৫০) দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে আফরোজা সুলতানা বলেন,একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং সংবাদকর্মীর পরিবার হয়েও আমরা আজ নিজ বাড়িতে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্রাসীর ভয়ে চরম অসহায়। আমরা প্রশাসনের কাছে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার ও সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে চিহ্নিত এই মাদক কারবারি ও শীর্ষ সন্রাসী কে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। সেই সাথে পুরো এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযানের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইলিয়াস তালুকদারের নির্দিষ্ট কোনো মোবাইল নম্বর বা বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে সার্বিক বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন ঘটনার দিন আফরোজা সুলতানা ফোনে নিরাপত্তা চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশের এস,আই আঃ আজিজ সহ ফোর্স পাঠানো হয়েছিল।পরবর্তীতে তাঁকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ইলিয়াসকে মাদকসহ গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।##

👁️ 289 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *