
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : পবিত্র ঈদুল আযহা পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতকরণ, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে গোপালগঞ্জে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলাজুড়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমন্বিত এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

ঈদের ছুটি শেষে কর্মমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রায় ভোগান্তি কমাতে জেলার বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার, মহাসড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে নিবিড় মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় বন্ধে কাউন্টারগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়। একই সাথে সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে চালকদের অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন না চালানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর অধীনে বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৮টি মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।


পাশাপাশি কোরবানিকৃত পশুর বর্জ্য থেকে যাতে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ বা পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পূর্বপরিকল্পিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় সরকারের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সামগ্রিক জনসেবায় জেলা প্রশাসন, গোপালগঞ্জের এ ধরনের অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও সমন্বিত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার সাধারণ যাত্রী ও সচেতন নাগরিক মহল মহল।
