
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন সামরিক অভিযানকে ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ উঠেছে—অভিযান শুরু হওয়ার আগেই সেই গোপন তথ্য ব্যবহার করে অনলাইনে বাজি ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর এক সদস্য।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সদস্য গ্যানন কেন ভ্যান ডাইককে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—ভেনিজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরো-কে ধরার পরিকল্পিত গোপন সামরিক অভিযানের তথ্য আগেই জানতেন তিনি। আর সেই গোপন তথ্যকে পুঁজি করে ক্রিপ্টো-ভিত্তিক বেটিং প্ল্যাটফর্ম Polymarket-এ বাজি ধরে বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভ্যান ডাইক এই প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে ৪ লাখ ৯ হাজার ডলারেরও বেশি লাভ করেন। মার্কিন বিচার বিভাগ এটিকে স্পষ্টভাবে “ইনসাইডার ট্রেডিং” এবং ফেডারেল আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ভ্যান ডাইক কর্মরত ছিলেন নর্থ ক্যারোলিনার Fort Bragg সামরিক ঘাঁটিতে—যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ বাহিনীর কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি বিশেষ অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনায় মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-কে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিউইয়র্কে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মাদুরো ও তার স্ত্রী এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়—বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতরে গুরুতর দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। একজন সক্রিয় সামরিক সদস্য কীভাবে গোপন অপারেশনের তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের চেষ্টা করলেন—তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর স্বচ্ছতা, তথ্য নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রিপ্টো-ভিত্তিক বেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও জোরালো আলোচনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
