বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে অনিয়মের অভিযোগ : উপপরিদর্শক জসীম উদ্দীনকে ঘিরে প্রশ্ন ? 

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত বরিশাল বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

বরিশাল প্রতিনিধি :  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর বরিশাল কার্যালয়ের উপপরিদর্শক জসীম উদ্দীন (পরিচিতি নং-৩১১১৪)-এর বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের দাবি, তল্লাশির সময় বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া, অর্থ আদায় এবং টাকা না দিলে মাদক “উদ্ধার” দেখিয়ে মামলা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের ধারাবাহিকতা ও পূর্ব ইতিহাস  :  সরকারি নথি অনুযায়ী, জসীম উদ্দীন পূর্বেও একাধিক বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর একটি অফিস আদেশ (২০ অক্টোবর ২০২৪) অনুযায়ী, শেরপুরে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।


বিজ্ঞাপন

নথিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলো হলো— মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা, মাসোহারা গ্রহণ, জব্দকৃত মাদক অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া, তদন্ত শেষে তাকে “অভ্যাসগত অপরাধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।


বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় ব্যবস্থা: শাস্তি হলেও বহাল দায়িত্ব  :  জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তিনি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। ২০১৯: বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, ২০২১: তিরস্কার দণ্ড, ২০২৪: বেতন গ্রেডে নিম্নতর ধাপে অবনমন। যদিও তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ ছিল, শেষ পর্যন্ত মানবিক বিবেচনায় তাকে বরখাস্ত করা হয়নি।

শেরপুরের একটি আলোচিত ঘটনা  :  ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেরপুর সদর এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে একজন ব্যক্তিকে আটক করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠে।

তদন্তে উঠে আসে—ভুক্তভোগীকে মারধরের অভিযোগ
অর্থ নেওয়ার পর মুক্তি দেওয়া, সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন,
ঘটনাটি  জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও আলোচিত হয়।

বরিশালে নতুন করে একই অভিযোগ :  ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বরিশালে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের অভিযোগ উঠছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযোগ অনুযায়ী— মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ, অভিযানে পাওয়া মাদক গোপনে বিক্রি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়।

নির্দিষ্ট কিছু সাম্প্রতিক অভিযোগ  :  দুটি পৃথক ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে— প্রথম ঘটনা : এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক না পেয়ে নগদ অর্থ নেওয়া হয় এবং পরে ইয়াবা দিয়ে আটক দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

 

দ্বিতীয় ঘটনা : এক ব্যবসায়ীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবি করা হয়; টাকা না দিলে মাদক দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি।
মাদক কারবারিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ  :  স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ, বরিশাল নগরীর কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

কর্মকর্তার বক্তব্য  :  অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জসীম উদ্দীন জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট অভিযানে দলের সদস্য ছিলেন এবং বিস্তারিত জানতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা নির্দিষ্ট অভিযোগ বা পূর্বের বিভাগীয় মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন ও জবাবদিহিতা  :  এই ঘটনাগুলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—একাধিক মামলায় দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন কঠোর শাস্তি কার্যকর হয়নি ? কেন একই ধরনের অভিযোগ নতুন কর্মস্থলেও অব্যাহত ?

অভ্যন্তরীণ নজরদারি কতটা কার্যকর ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত, দ্রুত ব্যবস্থা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

জনআস্থার প্রশ্ন : মাদকবিরোধী অভিযান একটি সংবেদনশীল দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর এই ঘটনাটি তাই কেবল একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়—বরং বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে আনছে।

উপসংহার  :  অতীতের নথিভুক্ত অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত অনিয়ম এবং বর্তমানের নতুন অভিযোগ—সব মিলিয়ে একটি প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে: ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা কি যথেষ্ট ?

👁️ 48 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *