
সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আত্মসাৎ এবং অডিট প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো ঘিরে কলেজজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি লাভের সময় তিনি ২০০০ ও ২০০৪ সালের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জাল সনদ ব্যবহার করেন।
এদিকে গত ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজে দুই দিনব্যাপী একটি অভ্যন্তরীণ অডিট পরিচালিত হয়। ওই অডিটে কলেজের ২৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, সনদ জালিয়াতি, বয়স গোপন করে চাকরিতে যোগদান এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠে আসে।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, রহস্যজনক কারণে অডিট রিপোর্টে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা জাল সনদের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অডিট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি অর্থ ব্যয় করে নিরীহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অডিটে নানা অভিযোগ তুলে আনতেও ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম. এম শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বিএম শাখার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণের সময় জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে আদায় করা লক্ষাধিক টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মনিরুজ্জামান।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।
অন্যদিকে, তার নিজ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত ও নৈতিক আচরণ নিয়েও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। একাধিক নারীঘটিত বিষয় নিয়ে অতীতে থানা ও স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচারের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত প্রভাষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
