সরেজমিনে দেখা গেছে, অত্র এলাকার বিভিন্ন খালের পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট ও বহুতল ভবন। এমনকি খালের জায়গা সংকুচিত করে কেউ কেউ নিজস্ব সুবিধার্থে অবৈধভাবে ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। যার ফলে একসময়ের প্রমত্তা খালগুলো এখন সরু নালায় রূপ নিয়েছে।
ভয়াবহ বিষয় হলো, খালের পানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি আশপাশের বাসা-বাড়ির ময়লা পানি নিষ্কাশনের পাইপ সরাসরি খালের মধ্যে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নদীর সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং দিনরাত গৃহস্থালির নোংরা রাসায়নিক বর্জ্য মিশে খালের পানি এখন কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করেছে, যা রাজধানী ঢাকার ‘বুড়িগঙ্গা’ নদীর তীব্র দূষণকে মনে করিয়ে দেয়। এই দূষিত ও পচা পানি থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা পুরো এলাকার বায়ু দূষণসহ নানাবিধ রোগব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে গত কয়েক বছরেও এই ওয়ার্ডের খালগুলো পরিষ্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা কচুরিপানা, টগরসহ টন টন ময়লা-আবর্জনা খালের তলদেশকে পুরোপুরি ভরাট করে ফেলেছে। কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দেখা না মেলায় খালগুলো এখন মশা ও নানাবিধ রোগজীবাণুর নিরাপদ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই পচা নোংরা পানি উপচে রাস্তাঘাট ও মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় নদী ও খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসকও বিভিন্ন স্থানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বরিশালের অন্যতম বৃহৎ ও জনবহুল ২৩ নং ওয়ার্ডের এই মরা খালগুলো দখলমুক্ত করা কিংবা এখানে নতুন যৌবন ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা ঘোষণা আসেনি। সরকারি এই নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে ব্যপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খাল উদ্ধার প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ হবে না। দখলদাররা এতটাই প্রভাবশালী যে তারা খালের প্রায় অর্ধেক অংশ অবৈধভাবে নিজেদের কবজায় নিয়ে রেখেছেন। সচেতন নাগরিকদের মন্তব্য, সিটি কর্পোরেশন বা জেলা প্রশাসন যদি আন্তরিকভাবে এই খালগুলো উদ্ধার করতে যায়, তবে তাদের অনেক বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে। উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে দখলদারদের পক্ষ থেকে তীব্র বাধার সম্মুখীন হওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।
আইনি ও সামাজিক জটিলতা যতই থাকুক না কেন, একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। অবিলম্বে সব ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে, কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ২৩ নং ওয়ার্ডের খালগুলো দখলমুক্ত করার দাবি উঠেছে। একই সাথে, সরকারি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত খাল খনন ও বর্জ্য অপসারণ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করতে বরিশালের নতুন প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সাহসী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।