
নইন আবু নাঈম, (শরণখোলা) : এক মাস চার দিন পর বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেয়ে সুন্দরবন থেকে বাড়ি ফিরে এসেছেন শরণখোলার দুই জেলে। বুধবার সকালে (২৭ মে) মুক্তিপণ দিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরে আসেন। অপহৃত জেলে সগীর বয়াতী (৪০) উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের এবং সরোয়ার হোসেন (৩৮) উপজেলার বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। দস্যুদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে শারীরিকভাবে অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

ওই বনদস্যুদের হাতে পাথরঘাটা এবং শরণখোলার ১০ জেলে এখনও বন্দি রয়েছে বলে জানা গেছে। ফিরে আসা জেলেরা জানান, গত জুলাই মাসের শেষের দিকে তারা শরণখোলা ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস থেকে মাছের পাশ করে বনের ছোট খাজুরা এলাকায় মাছ ধরতে যান।
সেখান থেকে একটি নৌকায় থাকা ছয় জেলের মধ্যে ছগির ও সরোওয়ারকে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে নিয়ে যায় সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ দস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। অপহৃতরা আরও জানান, দস্যুরা তাদেরকে দিয়ে দিনে রাতে নৌকা বাওয়াতেন।ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম হতো না।

বুনো মশার কামড়ে দিশেহারা হয়ে পড়তেন তাঁরা। বনদস্যুদের সাথে থাকা অবস্থায় তাঁরা সব সময় আতঙ্কগ্রস্থ ছিলেন। জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রতিপক্ষ দস্যুদের হামলার আশঙ্কায় ছিলেন সব সময়। সম্প্রতি বনদস্যু শরিফ বাহিনী ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর বাহিনী অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে বর্তমানে তিনটি বন্দুক রয়েছে এ দিয়ে তারা দস্যুতা চালাচ্ছে।

জেলেরা আরো জানান, বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীকে তাঁরা চাঁদার টাকা পরিশোধ করলেও পুনরায় বনে গেলে তাঁদেরকে অপহরণ করা হয়। সুন্দরবনের মাছ ধরার পেশা ছেড়ে দিবেন বলেও জানান জেলেরা। বনদস্যুদের চাঁদার টাকা পরিশোধ করে করে তারা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন । এছাড়াও ডাকাতরা সময়মতো চাঁদার টাকা না পেয়ে জেলেদের উপরে চালায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ অবস্থায় সুন্দরবনের মাছ ধরা জেলেদের পক্ষে ভবিষ্যতের সম্ভব হবে না।
সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সমাজসেবক ওবায়দুল শেখ জানান, বনদস্যুদের তাণ্ডবে শরণখোলার জেলেরা দিশেহারা প্রায়। দস্যুরের চাঁদাবাজির কারণে এ অঞ্চলের জেলেরা ক্রমশ সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ হলে দরিদ্র জেলে পরিবারগুলো খুবই আর্থিক সংকটে পড়বে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান জানান দীর্ঘদিন সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা শরণখোলার দুই জেলে ফিরে আসার খবর জানতে পেরেছেন তাঁরা। বনরক্ষীরা দস্যুদের অবস্থান ও গতিবিধি লক্ষ্য রাখছেন এবং মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করছেন। আশা করা যায় অচিরেই সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হবে।
