প্রাথমিক বৃত্তিতে আবারও সেরা মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

মোঃ হাবিবুর রহমান, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আবারও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সেরা হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয়টির ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন বৃত্তি পেয়েছে। এ ফলাফলের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।


বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন ট্যালেন্টপুল এবং ১২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো—ফাহমিদা জান্নাত নওরিন, আফনান রহমান নিহা, রাকাত মনি, মো. রাইয়ান ইসলাম ও আসোয়াত ইসলাম তাফসির।

সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে জাকিয়া সুলতানা, রাইসা নূর, মারিয়াম নূর ইন্তু, শতাব্দী পাল, রিতু আক্তার, সামিরা আক্তার, সোনিয়া আক্তার, নাদিয়া আক্তার লিমু, অর্পিতা ঘোষ বৃষ্টি, মো. তাসকিন আহমেদ, ওমর ফারুক পরশ ও জারিফ ইসলা
এর আগে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের প্রাথমিক বৃত্তি


বিজ্ঞাপন

পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। সে সময় ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে নয়জন ট্যালেন্টপুল ও ১০ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। ওই ফলাফলের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি উপজেলা ও জেলা—উভয় পর্যায়েই প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।


বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে। একই বছরে চারজন ট্যালেন্টপুল ও ছয়জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। সেবারও বিদ্যালয়টি উপজেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আয়োজিত পরীক্ষায় আগের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, “একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূল কৃতিত্ব শিক্ষার্থী ও তাদের সচেতন অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই এ সাফল্য এসেছে।

শিক্ষক হিসেবে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি। প্রতিদিনের পাঠদানের পাশাপাশি বিশেষ ক্লাস, সাপ্তাহিক ও মাসিক পরীক্ষা, বাড়িতে পড়াশোনার নিয়মিত তদারকি এবং মাসে অন্তত একটি অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেছি। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা পড়ার রুটিন তৈরি করে তা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত খোঁজ নিয়েছি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “মোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ধারাবাহিক সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পুরো উপজেলার জন্য গর্বের। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এমন অর্জন সম্ভব হয়েছে। অন্য বিদ্যালয়গুলোকেও এ সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

👁️ 22 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *