আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্যের অভিযোগ  : নারায়নগঞ্জের  সাইনবোর্ডে কোটি টাকার জমি দখলচেষ্টা: নেপথ্যে বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন ?

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  (নারায়ণগঞ্জ)  :  আদালতের জারি করা স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশকে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মিতালী মার্কেট সংলগ্ন কোটি কোটি টাকা মূল্যের একটি পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে নেপথ্যে থেকে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিজে সরাসরি সামনে না এসে পুরো ঘটনার মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন ইকবাল হোসেন। আর মাঠপর্যায়ে দখলচেষ্টা বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন তার আপন বোনজামাই মুক্তার হোসেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মুক্তার হোসেনকে ১১ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ  :  স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থেকে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন খোদ্দুঘোষ মৌজার বিভিন্ন আরএস দাগভুক্ত ৯৩ শতাংশ ৬৬ পয়েন্ট জমির মালিক কাজী তানভীর ইসলাম ও তার শরিকগণ। পৈত্রিক ও ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত এই সম্পত্তিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।


বিজ্ঞাপন

তবে কয়েক বছর ধরে জমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আদালতে গড়ালে দেওয়ানি মামলা নং-২৪৮/২০২১ দায়ের করা হয়। মামলাটিতে আদালত জমির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে স্থিতাবস্থা (Status Quo) জারি করেন।


বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতের এই আদেশের পরও একটি প্রভাবশালী মহল জমিটি দখলের পরিকল্পনা চালিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়ায় সুবিধা করতে না পেরে তারা রাজনৈতিক প্রভাব ও শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেয়।

আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ  :  অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ মে সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিটিতে প্রবেশ করে। তাদের হাতে রামদা, চাপাতি, লোহার রড ও সাবল ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, তারা জোরপূর্বক জমির সীমানা নির্ধারণের নামে টিনের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায়। জমির প্রকৃত মালিকপক্ষ বাধা দিলে হামলাকারীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগের তীর ইকবাল হোসেনের দিকে  :  ভুক্তভোগীদের দাবি, এই দখলচেষ্টার ঘটনায় মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আদালতের স্থিতাবস্থা বহাল থাকা একটি সম্পত্তিতে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ, লোকবল জোগাড় এবং দখলচেষ্টার মতো ঘটনা তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া সম্ভব নয়। তারা দাবি করেন, ইকবাল হোসেনের বোনজামাই মুক্তার হোসেনকে সামনে রেখে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রও দাবি করেছে, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠকে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

যা বললেন ইকবাল হোসেন  :  অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “জমি দখল কাকে বলে? যার জমি সে যদি বাউন্ডারি দেয়, তাহলে কি সেটা জমি দখল হয়?”

তিনি আরও বলেন, “একটি পক্ষ তাদের জমির কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি কাগজপত্র দেখে বুঝেছি তারা জমির মালিক। জমি দখলের প্রশ্নই আসে না।” আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,  “আমি সম্পৃক্ত হয়েছি এটা আপনি জানলেন কিভাবে? কেউ কাগজপত্র দেখাতে আসলে তা দেখা আর বিরোধে জড়িত থাকা এক বিষয় নয়।” তার বোনজামাই মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।

থানায় অভিযোগ :  এ ঘটনায় কাজী তানভীর ইসলাম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে এবং মালিকপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি  :  ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালতের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

👁️ 48 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *