
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য সম্পদ ও পোনা মাছ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চায়না দুয়ারী জাল, ভেসাল ও কাঠাসহ সব ধরনের অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর। সরকারি এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৭ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বান্ধাবাড়ী ইউনিয়নের হরিনাহাটি গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ১৬৪ পিস নিষিদ্ধ চায়না জাল উদ্ধার করেছে গ্রাম পুলিশ।
বান্ধাবাড়ী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, হরিণাহাটি গ্রামের মো. হারুন মিয়ার বসতবাড়িতে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না জাল মজুত রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাম পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।

এ সময় হারুন মিয়ার একটি পরিত্যক্ত ঘর তল্লাশি করে ১৬৪ পিস ক্ষতিকর চায়না জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জালগুলো উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ চায়না জালের এই ব্যবসার সঙ্গে মালিক মো. হারুন মিয়ার পাশাপাশি তার অংশীদার সালাম গাজী (পিং সেরজো গাজী) সরাসরি জড়িত রয়েছেন। উদ্ধারকৃত এই ১৬৪ পিস জালের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা।

পরবর্তীতে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজের উপস্থিতিতে জব্দকৃত নিষিদ্ধ চায়না জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। অবৈধ জাল ধ্বংসকরণের এই প্রক্রিয়া চলাকালীন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী এসব অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলার সর্বত্র এই ধরনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
