
নইন আবু নাঈম তালুকদার (শরণখোলা) : নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পানির মধ্যে কিছু সময় লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী ইলিয়াস তালুকদারের । ২ আগষ্ট বিকেলে শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার রায়েন্দা বাজারের ওয়াফদা কলোনীর পরিত্যক্ত ভবন এলাকা থেকে তাকে ১৮ পিচ ইয়াবা, ২ শ গ্রাম গাঁজা ও ২৯ হাজার ৫ শ ৭৫ নগদ টাকা সহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সন্ধ্যায় তার বসতঘর তল্লাশি চালিয়ে চাইনিজ কুড়াল ও চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পরে পুলিশ তার সঙ্গীও মাদক বিক্রেতা উত্তর আমড়াগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের পুত্র সোহাগকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস তালুকদার (৪৩) উপজেলার রায়েন্দা গ্রামের মৃত হাসেম তালুকদারের ছেলে।
দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সাথে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে পেশী শক্তি ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে ইয়াবা, গাঁজা সহ বিভিন্ন রকের মাদক বিক্রি করে আসছে এমন অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এমনকি তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে নালিশ করেও অনেকে সুরাহা পায়নি। তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে শরণখোলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ইলিয়াসের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধূর্ত ইলিয়াস কৌশলে ওয়াপদা কলোনির বাউন্ডারি ওয়াল টপকে পার্শ্ববর্তী নদীর পানিতে ডুব দিয়ে আত্মগোপন করেন। তবে পুলিশের কড়া নজরদারি ও নিখুঁত তল্লাশির মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে নদী থেকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হয়

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ইলিয়াস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের রাজ্য গড়ে তুলেছিল। তার অধীনে ১০/১২ জনের একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট দিনরাত ইয়াবার গাজা সহ বিভিন্ন মাদক উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাচার করে আসছে।এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় ৮ টি মামলা ও সোয়েল বিরুদ্ধে দুইটি মামলা চলমান রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নারী পুরুষ জানায়, ইলিয়াস এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কারবার করত। মাদকসেবী ও বখাটেদের আনাগোনার কারণে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা ভয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতো না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন একটি মামলা দায়ের করে সোমবার ৩ আগস্ট সকালে তাকে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের এই সফল অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে
