গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলমকে ঘিরে অনিয়ম, প্রভাব ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

গণপূর্ত অধিদপ্তরের আলোচিত-সমালোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর।


বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৩ ও সচিবালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলম-কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রভাব, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যোগ্যতা ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন : প্রাপ্ত প্রশাসনিক নথি ও অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলম গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও প্রশাসনিক ইউনিটে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার পদায়ন ও প্রশাসনিক অবস্থান বহু ক্ষেত্রে “প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক” দ্বারা প্রভাবিত ছিল বলে একাধিক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে এগোয়নি বলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি।


বিজ্ঞাপন
চাচা তালুকদার আব্দুল খালেক কে বাবা বানিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ফেসবুক পোস্ট।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ : একাধিক সূত্রের দাবি, তানভীর আলমের পারিবারিক ও সামাজিক সংযোগ পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিল। অভিযোগকারীদের মতে, এই সম্পর্ক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পদায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব দাবির স্বপক্ষে কোনো বিচারিক রায় বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।


বিজ্ঞাপন

টেন্ডার ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ : গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী  কিছু প্রকল্পে নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুকূলতা দেখানো হয়েছে দরপত্র প্রক্রিয়ায়,“অপ্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ” তৈরি হয়েছে, প্রকল্প মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে, এগুলোকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তাদের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ হয়নি বলে জানা যায়।

সচিবালয় ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়ন : সচিবালয়-সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক নথিতে দেখা যায়, তানভীর আলম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে বিরূপ কোনো তথ্য নেই—এমন উল্লেখও প্রশাসনিক রেকর্ডে পাওয়া গেছে। তবে একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার পদায়ন ও ক্যারিয়ার অগ্রগতিতে “অস্বাভাবিক সুবিধা” পাওয়া গেছে।

দুর্নীতি তদন্ত ও অভিযোগের অগ্রগতি : গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে সূত্রগুলো দাবি করছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত মাঝপথে স্থগিত বা সীমিত পরিসরে শেষ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ সংক্রান্ত দাবি : অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তার নামে-বেনামে সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে এই বিষয়ে কোনো স্বাধীন আর্থিক তদন্ত বা দুর্নীতি দমন সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

 

এাই সেই অনাপত্তি সনদ যেখানে খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের নামটা বাবা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি :  এই প্রতিবেদনের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলম-এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপসংহার : নিয়াজ মোহাম্মদ তানভীর আলমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো বর্তমানে মূলত প্রশাসনিক সূত্র, অভ্যন্তরীণ মন্তব্য ও অপ্রকাশিত তদন্ত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।
এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

👁️ 53 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *