
নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিতে গিয়ে বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে ব্যাপক অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে সারাদেশের বিভিন্ন সার্কেল থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ আদায় করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করা কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপছন্দনীয় কর্মস্থলে বদলির হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকা অঞ্চলের প্রতিটি সার্কেল থেকে ২ লাখ টাকা এবং ঢাকার বাইরের প্রতিটি সার্কেল থেকে ১ লাখ টাকা করে সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অর্থ সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়ায় বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও ঢাকা সার্কেল-৪-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করা এখন প্রায় রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এসব অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অনেক সময় প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের চাপ তৈরি হয়।”
আরেকজন প্রকৌশলী বলেন, “এর আগে গণপূর্ত বিভাগের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অবসরে গেছেন। কিন্তু তাদের বিদায়ের জন্য কখনও এভাবে বাধ্যতামূলক অর্থ সংগ্রহ করা হয়নি। তাহলে এবার কেন ব্যতিক্রম?”

অভিযোগ রয়েছে, বিদায়ী অনুষ্ঠানকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে কুষ্টিয়া থেকে ২৫টি খাসি আনা হয়। এছাড়া শামসুদ্দোহাকে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের মূল্যবান উপহারও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসব ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক প্রকৌশলী।


অভিযোগকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করা হলে তা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের পরিপন্থী। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অর্থ সংগ্রহের বৈধতা, ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা এবং বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. মনিরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, উপরে বর্ণিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
যদি অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায় বা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করে, তবে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
