
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : গোপালগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে বিচারকের ছোড়া পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনজীবী সমাজে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার আদালতে বিচার কাজ চলাকালীন এজলাসের পেছনের সারিতে উপস্থিত কয়েকজন মক্কেল নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া তাদেরকে নীরব থাকতে বলেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা সাথে সাথেই শান্ত হয়ে যান। তবে তা সত্ত্বেও ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে নিজের টেবিলে থাকা ভারী পেপার ওয়েটটি মক্কেলদের উদ্দেশ্য করে ছুঁড়ে মারেন।
পেপার ওয়েটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় গিয়ে লাগে। তীব্র আঘাতে তার মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরবর্তীতে উপস্থিত সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই আইনজীবীর চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


ঘটনার পর আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের বিস্তারিত জানতে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার বক্তব্যের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এজলাসে বিচারকের এমন আচরণে গোপালগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বারের একাধিক আইনজীবী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, বিচারক সুজন মিয়া প্রায়শই কোর্ট চলাকালীন মক্কেল ও আইনজীবীদের সাথে অশোভন আচরণ করে থাকেন, যা একজন বিচারকের থেকে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এজলাসে দায়িত্বশীল পদে থেকে মেজাজ হারিয়ে এই ধরনের সহিংস আচরণ বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে বলে অভিযোগ জানান তারা।
আইনজীবী সমিতি ও বিচার প্রার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী বিচারকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
