কালিয়াকৈরে অতিরিক্ত লোডশেডিং ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা ও মিলেনা বিদ্যুৎ তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর জন দুর্ভোগ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)  :  গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে, বাজারে, ব্যবসা, বাসাবাড়িতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘন্টা ও মিলে না বিদ্যুৎ তীব্র সংকটে ১০ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


বিজ্ঞাপন

দিন-রাতে গড়ে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, সেখানে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে মৌচাক, তেলিরচালা ও চন্দ্রা এলাকার হরতকিতলা, আমতলা,মাইওয়ান মোড়সহ বিভিন্ন ও গার্মেন্টস-টেক্সটাইল কারখানার চাহিদাই ১২০ মেগাওয়াটের বেশি। তবে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সংকটের কারণে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

এতে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য ও নির্মাণ খাতসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। কালিয়াকৈর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, চাহিদার মাত্র ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ মেলায় রেশনিং করে সংযোগ সচল রাখা হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন

আজ শুক্রবার সকালে কালিয়াকৈর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় করুণ চিত্র। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনরা তীব্র গরমে হাতপাখা বা ফাইল দিয়ে বাতাস করছেন। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া তানসিম আক্তার মুনমুন জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে জরুরি বিভাগ অচল হয়ে পড়েছে।


বিজ্ঞাপন

গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন, রোগীদের নেবুলাইজার, আইসিইউর অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, এক্স-রে ও প্যাথলজি পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। প্রাক্কলিত জ্বালানির অভাবে জেনারেটরও সীমিত সময়ের বেশি চালানো যাচ্ছে না।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে মৌচাক ও চন্দ্রার হরতকিতলা বিভিন্ন গার্মেন্টসে শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিজিএমইএর স্থানীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লাখ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হবে এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হবে।

এ ছাড়া গভীর নলকূপ ও পাম্প বন্ধ থাকায় সেচ দিতে পারছেন না আমন চাষিরা, বাসাবাড়িতে দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কম্পিউটার ল্যাব বন্ধ থাকার পাশাপাশি রাতে অন্ধকারে চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যুতের এমন চরম ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে কালিয়াকৈর উপজেলা নাগরিক কমিটি ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

👁️ 33 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *