নিজস্ব প্রতিবেদক : “বাংলাদেশ আমার অহংকার”- এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

র্যাব সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এবং র্যাব-৯ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর থানাধীন সাতমোড়া এলাকায় মানব পাচার মামলার এজাহার নামীয় আসামি মোঃ মোস্তফা (৪৬) এবং মোঃ মহসিন মিয়া (৪২)’কে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একটি প্রাইভেট এজেন্সির ব্যানারে মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করে আসছিলো। ভিকটিম আব্দুল খালেক (২২)ও উক্ত খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়ায় যায় এবং সেখানে প্রচন্ড শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে এসে ডিএমপির কাফরুল থানায় উক্ত মামলাটি রুজু করে।

ভিকটিম আব্দুল খালেক (২২) গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের পূর্ব পরিচত এবং তাদের মাধ্যমে এজেন্সির বাকি সদস্যদের সাথে ভিকটিমের পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে আসামি মোঃ মোস্তফা (৪৬) ভিকটিমকে ১৫ লক্ষ টাকা চুক্তির বিনিময়ে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে মালয়েশিয়া হয়ে আমেরিকা যাওয়ার জন্য উক্ত এজেন্সি’কে গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়ের উপস্থিতিতে নগদ ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করে। কিছুদিন পরে আসামীদ্বয় ভিকটিমকে জানায় যে, ভিসা রেডি হয়েছে তাই চুক্তি অনুযায়ী বাকি ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করতে বলে। ভিকটিম আসামিদের কথায় সরল বিশ্বাসে বাকী ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিন্বয় ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ভিকটিমকে উক্ত এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। সেখানে আসামিদ্বয়ের পরিচিত বাপ্পী নামে একজন লোক ভিকটিককে তার বাসায় নিয়ে যায়। কিন্তু ভিকটিমকে আমেরিকায় না পাঠিয়ে মালয়েশিয়াতে একটি সিমেন্ট কারখানায় আটক রেখে জোরপূর্বক শ্রম- শোষনমূলক কাজে বাধ্য করে এবং প্রচন্ড শারীরিক নির্যাতন করে এবং নির্যাতনের বিভিন্ন ফুটেজ বাদীর বাড়িতে পঠিয়ে মুক্তিপণ দাবী করে। বাদীর আত্মীয় স্বজন মিলে মুক্তিপন বাবদ ৩ লক্ষ টাকা আসামিদের নিকট দেয়।

এক পর্যায়ে ভিকটিম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কৌশলে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত ফকির নামের এক বাংলাদেশী দালালের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে। কিন্তু উক্ত দালাল তাকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে মানবদেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় চক্রের কাছে পুনরায় বিক্রি করে দেয়। শেয়োক্ত চক্রটি ভিকটিমের চোখ, কান, কিডনি বিক্রি করার জন্য একদিন স্থানীয় একটি অবৈধ ক্লিনিকে স্থানান্তরের সময় মালয়েশিয়ান পুলিশ রাস্তায় চেক পোস্টে গাড়ি আটক করলে তৎক্ষনাৎ ভিকটিমকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ভিকটিমকে মালয়েশিয়ান পুলিশ অবৈধ অধিবাসী হিসেবে চার মাসের জেল দেয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ভিকটিম বাংলাদেশে ফেরত আসে এবং বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে উক্ত ঘটনায় কাফরুল থানায় মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল উক্ত ঘটনার বিষয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করেন এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদ্বয়ের অবস্থান সনাক্ত করে র্যাব-৯ এর সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর থানাধীন সাতমোড়া এলাকায় অভিযান
পরিচালনা করে মানব পাচার মামলার এজাহার নামীয় আসামি মোঃ মোস্তফা (৪৬) এবং মোঃ মহসিন মিয়া (৪২) ‘কে গ্রেফতার করে। আসামিদ্বয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশীদের মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করে নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপন আদায় করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।
