বিপ্লবী সরকারের আমলেও চাঁদাবাজির তাণ্ডব ! শার্শায় উন্নয়ন সড়ক ভেঙে ইট লুট—আতঙ্কে এলাকাবাসী

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

যশোর প্রতিনিধি  : যেখানে দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল—বিপ্লবী সরকারের শাসনে চাঁদাবাজ, চোর-বাটপারদের দিন শেষ হবে। সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা এসেছে সর্বোচ্চ মহল থেকে। অথচ বাস্তব চিত্র যেন উল্টো—মাঠ পর্যায়ে এখনো দাপটের সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে চাঁদাবাজির পুরনো ভূত।


বিজ্ঞাপন

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের জিরনগাছা গ্রামে ঘটেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নবনির্মিত একটি উন্নয়ন সড়কের কাজ বন্ধ করে নির্মাণাধীন রাস্তা থেকে ইট খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তি আরমান হোসেন ডাবলুর বিরুদ্ধে।

ঠিকাদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি—নির্মাণকাজ চলাকালে ডাবলু মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি লোকজন নিয়ে এসে রাস্তার ইট তুলে ফেলেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। এতে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন

উন্নয়ন না কি ধ্বংস—প্রশ্ন এলাকাবাসীর : গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, বহু কষ্টে সরকারি বরাদ্দে এই রাস্তাটির কাজ শুরু হয়েছিল। কৃষিপণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং রোগী পরিবহনে এটি ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু চাঁদাবাজির বলি হয়ে এখন উন্নয়ন প্রকল্পই ধ্বংসের মুখে।


বিজ্ঞাপন

এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা শুনেছিলাম এখন বিপ্লবী সরকার, চাঁদাবাজদের ঠাঁই হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখছি, তারা আগের মতোই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

ঠিকাদারের অভিযোগ : সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার জানান, “কাজ শুরুর পর থেকেই আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। আমি রাজি না হওয়ায় জোর করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ইট পর্যন্ত তুলে নিয়ে গেছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ :  এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— যেখানে সেনাবাহিনীর হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা, সেখানে প্রকাশ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে হামলা করেও অভিযুক্তরা কীভাবে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ায়?

জনমনে ক্ষোভ : এ ঘটনার পর পুরো উলাশী ইউনিয়নে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক। অনেকে বলছেন, যদি এখনই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে গ্রামাঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

শেষ কথা : বিপ্লবী সরকারের আমলে যদি প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে উন্নয়ন সড়ক ভেঙে ফেলা যায়—তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন উদ্যোগ কতটা সুরক্ষিত, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে যশোরের শার্শা থেকে শুরু করে গোটা অঞ্চলে।

এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কি সত্যিই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রয়োগ করবে, নাকি এই ঘটনাও চাপা পড়ে যাবে অদৃশ্য শক্তির ছায়ায়?

👁️ 33 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *