!! বিশেষ প্রতিবেদন  !!  নতুন রাজনীতির অঙ্গীকার: প্রতিহিংসা জয় ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে বিএনপির চ্যালেঞ্জ

Uncategorized জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী  :  বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে ঘিরে জনমনে এক নতুন ও গভীর প্রত্যাশার সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং একটি গুণগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মেরুকরণের পর জনগণের চাওয়া—দলটি অতীতের সকল তিক্ততা ও ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সুস্থ, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক ধারায় দেশকে নেতৃত্ব দেবে।


বিজ্ঞাপন

​নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী, বিএনপিকে কেবল ভোটের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটারদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এখন সময়ের দাবি। এই যাত্রায় দলটিকে অবশ্যই মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ধারণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে উন্নয়ন ও শান্তির পথ প্রশস্ত করা এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে দলটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

​বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ক্ষত হলো দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ‘প্রতিহিংসার সংস্কৃতি’। একটি দল ক্ষমতায় এলে অন্য দলের ওপর দমন-পূড়ন ও মামলা-হামলার যে চক্র গড়ে উঠেছে, সাধারণ মানুষ আজ তার চূড়ান্ত অবসান চায়। বিএনপির কাছে বর্তমান প্রজন্মের বড় আকাঙ্ক্ষা হলো, তারা রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় দেবে এবং ক্ষমতায় গেলে কোনোভাবেই যেন প্রতিহিংসার পুরোনো পথে পা না বাড়ায়। প্রতিশোধের বদলে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নই হবে একটি পরিপক্ক রাজনৈতিক দলের পরিচয়।


বিজ্ঞাপন

​গণতন্ত্রের পাশাপাশি বিএনপির কাছে জনগণের বড় প্রত্যাশা হলো একটি টেকসই ও আধুনিক অর্থনৈতিক কাঠামো। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। তরুণ প্রজন্ম আজ রাজনীতিতে কেবল স্লোগান নয়, বরং তাদের ক্যারিয়ার ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের নিশ্চয়তা চায়। বিএনপি যদি তাদের ভবিষ্যৎ রূপরেখায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার এবং উদ্যোক্তা তৈরির অনুকূল পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।


বিজ্ঞাপন

​একইসাথে, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দাবি একটাই—ন্যায়বিচার ও সুশাসন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনের অপপ্রয়োগ দূর করে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা বিএনপির জন্য অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের প্রকৃত সংস্কার সম্ভব।

​পরিশেষে, উন্নয়নের মহাসড়কে দেশকে এগিয়ে নেওয়া মানে কেবল বাহ্যিক অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার গুণগত পরিবর্তন আনা। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন অপরিহার্য। বিএনপি যদি মেগা প্রজেক্টের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, তবেই তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে। প্রতিহিংসা নয়, বরং প্রগতি, সমঝোতা এবং দূরদর্শী অর্থনৈতিক পরিকল্পনাই হোক আগামী দিনের রাজনীতির মূলমন্ত্র—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

👁️ 16 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *