
নিজস্ব প্রতিনিধি, (মুন্সিগঞ্জ) : মেঘনা নদী যেন আবারও জলদস্যু আতঙ্কের পুরনো অধ্যায় ফিরিয়ে আনছে। অভিযোগ উঠেছে, মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার হোসেন্দী ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাটিবলাকী গ্রাম এখন মেঘনার কথিত ‘শীর্ষ ডাকাত’ মাসুম ও তার সহযোগীদের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত। গ্রামবাসীর দাবি—ডাকাতির ঘটনা প্রকাশ্যে চলে এলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান নজরদারি নেই, ফলে হুমকি-ধামকিতে জনজীবন হুমকির মুখে।

৯০ কেজি গাঁজাসহ টলার আটকের অভিযোগ : অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ০৬-০২-২০২৬ ইং, সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে সিলেট থেকে আসা একটি কাঠের তৈরি ইঞ্জিনচালিত টলার মেঘনা নদী হয়ে শীতলক্ষ্যায় প্রবেশের সময় পথরোধ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসুম ও তার সহোদর দুই ভাই—আলম ও জামান—অস্ত্রের মুখে টলারটি আটক করে। টলারটিতে প্রায় ৯০ কেজি গাঁজা ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, টলার আটকের পর মাসুম ও তার তিন ভাই মাদকদ্রব্যসহ নিজ গ্রাম ভাটিবলাকীতে ফিরে যায়। পরে গাঁজাগুলো বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয় বলেও গ্রামবাসীর দাবি।

গ্রামজুড়ে আতঙ্ক, প্রকাশ্যে হুমকি : ঘটনার খবর দ্রুতই ভাটিবলাকী গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ডাকাতির বিষয়টি গ্রামবাসীর জানা হয়ে যাওয়ায় মাসুম ও তার সহযোগীরা এখন প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে—“কেউ মুখ খুললে মেরে ফেলা হবে”। এমনকি মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা জানি কী হয়েছে, কিন্তু ভয়েই কিছু বলতে পারছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”

প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন : মেঘনা নদীতে প্রশাসনের টহল ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, নদীপথে নিয়মিত নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ফলে ডাকাতচক্র সুযোগ নিচ্ছে।
একজন স্থানীয় সমাজকর্মীর ভাষ্য : “ডাকাতের ভয় যেমন আছে, তেমনি প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতার অভাবও মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নদীপথে স্থায়ী নজরদারি না বাড়ালে এমন ঘটনা বন্ধ হবে না।”
ভাটিবলাকীর একটাই দাবি, বিচার : হোসেন্দী ইউনিয়নের ভাটিবলাকী এলাকার সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—মাসুম ও তার সাথে সম্পৃক্ত সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হোক। তারা চান, যেন ভবিষ্যতে কেউ আর এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা যায়।
উল্লেখ্য : উল্লিখিত অভিযোগসমূহ স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।
মেঘনার বুকজুড়ে প্রশ্ন এখন একটাই—নদীপথ কি আবারও ডাকাতচক্রের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে, নাকি দ্রুত পদক্ষেপে থামবে এই ত্রাস?
