‘জুলাইয়ের রক্তের সাথে তামাশা ?’—গণভোট চ্যালেঞ্জে হাইকোর্টে রিট, বিএনপির আইনজীবীদের ভূমিকায় নতুন বিতর্ক !  

Uncategorized আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  জুলাই আন্দোলনে নিহত-আহত হাজারো মানুষের ত্যাগ ও গণভোটে জনগণের রায়ের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে হাইকোর্টে দায়ের করা এক রিটকে ঘিরে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।


বিজ্ঞাপন

এই রিটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রিটকারীদের পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবীদের একটি বড় অংশের সঙ্গে বিএনপির প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি  :  দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই আন্দোলনকে একটি বড় মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। এই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের প্রাণহানি এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা এখনো জাতির স্মৃতিতে তাজা।


বিজ্ঞাপন

এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতকে অনেকেই ‘জনতার রায়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু সেই গণভোটের ভিত্তিতে গৃহীত জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্টে করা রিট।


বিজ্ঞাপন

রিটকারীদের পক্ষে যেসব আইনজীবী :  রিট পিটিশনারের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী— আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান মিলন এবং জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তবে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন বিশেষ করে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া তিনি বরিশাল-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলেন।

অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সদস্য সচিব। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

বরগুনা-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় ছিল। অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান মিলন বিএনপি প্যানেল থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবেও পরিচিত।

রিটের বিরোধিতায় যেসব আইনজীবী  :  রিট পিটিশনের বিরোধিতা করে আদালতে বক্তব্য রাখেন— সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী এবং শিশির মোহাম্মদ মনির। তারা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, গণভোটে জনগণের যে রায় এসেছে, সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

দ্বৈত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন  :  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়ে। একদিকে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সেই একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে—এটিকে অনেকেই ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ হিসেবে দেখছেন।

তাদের মতে, যদি একই সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে দুটি প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়, তবে একটি গ্রহণ করে অন্যটিকে অস্বীকার করা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।

“জুলাইয়ের রায়ের অবমাননা ?’  জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকেও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তাদের দাবি, যে আন্দোলনে এত মানুষের জীবন গেছে, সেই আন্দোলনের ফল হিসেবে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা মানে জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও জনগণের ‘হ্যাঁ ভোটের’ প্রতি অবমাননা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক  :  সমালোচকদের অভিযোগ : বিএনপির ভেতরের একটি অংশের এমন অবস্থান দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের ভাষ্য, জুলাইয়ের ত্যাগ ও জনগণের রায়কে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে হাইকোর্টের জারি করা রুলের শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষ। কারণ এই মামলার রায় শুধু একটি আইনি প্রশ্নই নয়—বরং জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও জনগণের গণভোটের মর্যাদা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

👁️ 29 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *